জাতীয় ক্রিকেট লিগের গায়ে একসময় ছিল ‘পিকনিক ক্রিকেট’ তকমা। প্রথম শ্রেণির এই ক্রিকেট আসর স্বয়ং ক্রিকেটাররাই সিরিয়াসলি নিতেন না, কথাটা ছিল একরকম ওপেন সিক্রেট। দৃশ্যপট বদলাতে বিভিন্ন সময়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন ক্রিকেট কর্তারা। যার সর্বশেষ সংযোজন বলতে হবে বিপ টেস্টে কড়াকড়ি।
১০ অক্টোবর শুরু হতে যাচ্ছে জাতীয় লিগের ২১তম আসর। যা শুরুর আগে ক্রিকেট অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ের নাম বিপ টেস্ট। ফিটনেসের এই পরীক্ষায় ১১ না পেলে কেউ অংশ নিতে পারবেন না আসরে, এমন শর্তই বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ক্রিকেটারদের সামনে। আর এমন শর্তে বেশ উন্নতিও পরিলক্ষিত হয়েছে ক্রিকেটারদের ফিটনেসে। প্রথম দফায় বিফ টেস্টে যেমন ৮০ শতাংশ ছিল পাশের হার।
তবে বেশ কজন তারকা ক্রিকেটার আছেন যারা বেঁধে দেওয়া সীমায় পৌঁছাতে পারেননি। আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির হোসেনরা রয়েছেন সেই তালিকায়। প্রথম দফায় ফেল করার পর দ্বিতীয় দফায়ও তারা পারেনি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছাতে। তবে শেষ পর্যন্ত বিশেষ কোটায় পার পাচ্ছেন আশরাফুল-রাজ্জাকরা। অনেকেই আবার সেটা পাচ্ছেন না।
আলোচিত এই বিপ টেস্টে জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রতি ক্রিকেটারদের সিরিয়াসনেসটা অন্তত পরিষ্কার। যা সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলতে হবে। এক সময় জাতীয় ক্রিকেট লিগই ছিল দেশের একমাত্র ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট লিগ। ১৯৯৯-০০ মৌসুমে যার পথ চলার শুরু। প্রথম আসর ফার্স্টক্লাস মর্যাদা না পেলেও পরের বছর টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকেই ফার্স্ট ক্লাস মর্যাদা পায় জাতীয় লিগ। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) যোগ হয়েছে দেশের ফার্স্টক্লাস ক্রিকেট আসরের তালিকায়।
তবে প্রথম শ্রেণির বা ফার্স্টক্লাস কোনো লিগের গায়ে যদি পিকনিক ক্রিকেট তকমা থাকে সেটা নিশ্চয়ই সার্বিক ক্রিকেটের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না। এখন অবশ্য দৃশ্যপটের বদল দেখছেন অনেকেই।
মোহাম্মদ আশরাফুল যেমন রবিবার সংবাদমাধ্যমে কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘আসলে সত্যি কথা আগে কিন্তু আমাদের জাতীয় লিগটি অতটা সিরিয়াসলি নিতাম না। ফিটনেস লেভেল বলেন, খেলার মান যদি বলেন...। এখন কিন্তু সবাই অনেক সিরিয়াসলি নিচ্ছে।’
বিফ টেস্টের উদাহরণ টেনে আশরাফুল বলেন, ‘এবারের কথা যদি চিন্তা করি আমরা, সবাই কিন্তু এই ১১ পয়েন্ট পেতে হবে এ কথা ভেবে ১০-১২ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর বেশির ভাগই কিন্তু ১১ দিয়েছে। আমরা যারা দিতে পারিনি, আমাদের সময় আছে। হয়তো এই সময়গুলোতে প্রস্তুতি নিব।’
শেষ পাঁচ বছরে অবশ্য জাতীয় লিগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেড়েছে বলে বিশ্বাস করেন আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার আব্দুর রাজ্জাক। তার মতে, ‘শেষ পাঁচ বছরে যা খেলেছি, তাতে আমার মনে হয়েছে লিগ এখন আগের থেকে অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। প্রত্যেকটা খেলোয়াড় চায় যার যার জায়গা থেকে পারফর্ম করতে। বোলার চায় পাঁচ উইকেট পেতে। ব্যাটসম্যানরা এখন একশতে মন ভরে না। দু শ, আড়াই শ কিংবা তিন শও করতে চায় এখন। এটা দারুণ।’
বর্তমান প্রক্রিয়াগুলোকে তাই সাধুবাদ জানান রাজ্জাক। তবে আরো কিছু বিষয়ে যে পরিবর্তন জরুরি সেটি বলতেও ভোলেন না, ‘যেভাবে আগাচ্ছে খারাপ বললে ভুল হবে। কিছু কিছু সিস্টেম আমাদের দেশে যেভাবে চালু হয়েছে সেটা পরিবর্তনের জন্য সময় লাগবে।’ রাজ্জাক সবচেয়ে জোর দেন উইকেটের উন্নতিতে।
