সামাজিক ব্যাধিগুলোর মধ্যে অন্যতম মারাত্মক ও বিপজ্জনক ব্যাধি হলো বাল্যবিয়ে। বর্তমান সময়ে সমাজে বাল্যবিয়ে নামক বিষাক্ত তীরের আঘাতে বলি হচ্ছে হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী। এর জন্য কারা দায়ী? যে শিশুটি সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে এই সোনার বাংলাদেশ পরিচালনা করত, কেন আজ সেই শিশুটি বাল্যবিয়ের শিকার হচ্ছে? এমন প্রশ্ন বারবার মনের ভেতর উঁকি দেয়। বর্তমানে বাল্যবিয়ে সমাজে যেভাবে প্রকট আকার ধারণ করেছে, তা জাতিকে দিন দিন বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সমাজের মানুষের মধ্যে এক ধরনের কুসংস্কার কাজ করে যে মেয়েদের বেশি পড়াশোনা করার দরকার নেই। অথচ পাখি যেমন একটি ডানায় ভর দিয়ে উড়তে পারে না, তেমনি মেয়েদের বাদ দিয়ে দেশ জাতি ও সমাজের উন্নতি সম্ভব নয়। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে বাল্যবিয়ে না দিয়ে সন্তানদের শিক্ষিত করতে হবে। তবেই দেশ উন্নতির দিকে এগিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের পাশাপাশি অনেক বেসরকারি সংগঠন বাল্যবিয়ের প্রতি কঠোর নজরদারি করা সত্ত্বেও বাল্যবিয়ে সংঘটিত হচ্ছে, কারণ হলো বাল্যবিয়ে নামক আইনটি বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ। বাল্যবিয়ে নামক ব্যাধি থেকে দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। যেসব ব্যক্তি বাল্যবিয়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। সমাজে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।
মোবারক আলম, আলমডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা
