আট দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার ও ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারী বুয়েট শিক্ষার্থীরা।
পাশাপাশি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) চলমান শিক্ষাবর্ষে (২০১৯-২০) ভর্তি পরীক্ষা স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বুয়েট শহীদ মিনারের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন। এর আগে লিখিতভাবে আট দফা দাবি জানান তারা।
১. খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্তকৃত খুনিদের সবার ছাত্রত্ব বাতিল করে আজীবন বহিষ্কার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. দায়েরকৃত মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ৩০ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে বিকেল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।
৫. আবাসিক হলগুলোতে র্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সকল প্রকার শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন বন্ধে এর সঙ্গে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে আহসানউল্লাহ হল এবং সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে।
৬. রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে।
৭. মামলা চলাকালীন সকল খরচ এবং আবরার ফাহাদের পরিবারের সকল ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।
৮. ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।
এছাড়া আগামী ১৪ অক্টোবর বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। চলমান পরিস্থিতিতে সেটিও স্থগিত রাখা দাবি করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের এ দাবি ঘোষণার সময় বুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক এবং শিক্ষক সমিতির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
