বেরোবিতে মাদকের বিস্তার; সাময়িক বরখাস্ত ৪, চাকরিচ্যুত ১

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:২৫ পিএম

ভয়াবহভাবে মাদক ছড়িয়ে পড়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে ততটা না ছড়ালেও কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে মাদকের বিস্তার ঘটেছে। এ ছাড়া সন্ধ্যার পর বহিরাগতরাও ক্যাম্পাসকে মাদক সেবনের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে। সম্প্রতি ক্যাম্পাসে মাদক সেবনকালে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের এক কর্মচারীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।

মাদকের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থাকায় সম্প্রতি তিন কর্মচারী ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত এবং অপর এক কর্মচারীকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা সবাই মাদক সেবনের সময় ও মাদকদ্রব্যসহ হাতেনাতে পুলিশের কাছে আটক হলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদে কর্মরত এমএলএস মো. রায়হান প্রধান গত বৃহস্পতিবার রংপুর নগরীর সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গাঁজাসহ তাজহাট থানা-পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে তাজহাট থানা-পুলিশ মাদকের মামলা দায়ের করলে গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বহিষ্কার করে।

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন স্বাধীনতা স্মারকের বেদিতে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় পরিসংখ্যান বিভাগের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহকারী এনায়েতুল করিমকে আটক করে পুলিশ। তারা দুজনও সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন।

এর আগে গত ৩১ জুলাই দিনাজপুরের বিরামপরে ফেনসিডিলসহ নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মকর্তা (গ্রেড-১) মোক্তারুল ইসলামকে আটক করে পুলিশ। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

এদিকে গত বছরের ৩১ মে লালমনিরহাটের কালিগঞ্জে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ নিরাপত্তা শাখার হাবিলদার শাহ্ সোহেল মিয়া পুলিশের হাতে আটক হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও দীর্ঘদিন পর ৬৩ তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করে।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, স্বাধীনতা স্মারক চত্বর ও একাডেমিক ভবনগুলোর আশপাশে নির্বিঘ্নে মাদক সেবন চলে বলে অনেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ করেন। মাদক সেবনের পর এক গ্রুপ চলে গেলে ওই সব স্থানে বসে আরেক গ্রুপ। এভাবে গভীর রাত পর্যন্ত মাদক সেবন চলে।

এদিকে মাদক সেবনের অভিযোগ আছে কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও। গুটি কয়েক শিক্ষার্থীর সহযোগিতায় আবাসিক হলগুলোতে নিয়মিত মাদকের আড্ডা বসায় মাদকসেবীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোন কোন ছাত্রনেতার ছত্রচ্ছায়ায় হলগুলোতে বহিরাগতদের মাদকের আড্ডা বসলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। এছাড়াও কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধেও মাদক নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের, যাদের মধ্যে দুই/ একজন সিনিয়র শিক্ষকের নামও শোনা যায়। তবে তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ না থাকায় বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আতিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছে বলেই অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাছাড়া, বহিরাগতদের ঠেকাতে পুলিশ ও আনসার বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেয়া আছে। ক্যাম্পাসে মাদকের ঘটনা আগের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রণে বলেও দাবি করেন প্রক্টর।

সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউলল্লাহ বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধেই মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার সংশ্লিষ্টতা মিলেছে তাদেরকে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন সর্বদা সচেতন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত