মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৭:১৮ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করে প্রায় ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে দীর্ঘদিন পরে হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে জাল দলিল তৈরির ঘটনাটি ধরা পড়েছে।

জানা যায়, তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প (২য় পর্যায়) প্রথম ইউনিটের বগুড়া সেচ খাল নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ২০০৯ সালে পার্বতীপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজার জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে খামার জগন্নাথপুর মৌজার ৮৭ শতক জমি অধিগ্রহণ করা হয়। উল্লিখিত জমির মালিক হলেন ওই মৌজার মণ্ডলপাড়া গ্রামের মৃত রহমতুল্লার ছেলে আবদুর রহমান, আবদুর রহিম ও আবদুল করিম এবংমেয়ে খুড়কি মাই ও হাজেরা মাই। ইতিমধ্যে দিনাজপুর এলএ শাখা থেকে জমির ওয়ারিশদের নামে নোটিস দেওয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পাঠানো নোটিস সবাইকে দেওয়া হয়নি।

এদিকে, আবদুর রহমান, আবদুর রহিম ও আবদুল করিমকে ওই জমির দাতা দেখিয়ে আবদুল করিমের ছেলে আনিছুল হক গ্রহীতা হিসেবে একটি রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন করেন। ওই দলিল মূলে আনিছুল হক উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নামজারি (খারিজ) করেন। সেই মালিকানা সূত্রে আনিছুল হক ওই জমি তার স্ত্রী রেহেনা বানুর নামে দানপত্র দলিল মূলে লিখে দেন। ফলে রেহেনা বানুর নামে অফিস থেকে নামজারি (খারিজ) করা হয়। রেহেনা বানুর স্বামী আনিছুর হক স্ত্রীর নামে ওই জমির দলিলপত্রাদি দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের এলএ শাখায় দাখিল করলে অধিগ্রহণকৃত ৮৭ শতকের মূল্য বাবদ দুই দফায় ৬৮ লাখ ৬৯ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

জমি অধিগ্রহণের টাকা এককভাবে আনিছুল হকের স্ত্রী উত্তোলন করায় অন্য অংশীদাররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গত ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর অংশীদার আ. রহমানের পুত্র মতিয়ার রহমান বাবুসহ অন্য অংশীদাররা ন্যায্য পাওনা বুঝে পাওয়ার জন্য দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন এবং তারা ১৫০৯৭ নম্বর দলিলটি ভুয়া দলিল উল্লেখ করে তদন্তের দাবি জানান। তদন্তে দিনাজপুর সদর রেকর্ড রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চলতি বছরের ২৭ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বলা হয় ‘পার্বতীপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ১৯৮৬ সালের ২৫ জুন ওই নম্বরের কোনো দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি।’

মৃত আবদুর রহমানের ছেলে মতিয়ার রহমান বাবু বলেন, আমার বাবা ১৯৮৩ সালে মারা যান। অথচ তিন বছর পরে ১৯৮৬ সালে ১৫০৯৭ নম্বর দলিলে আমার বাবাকে জীবিত দেখিয়ে ভুয়া টিপসই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমার বাবা স্বাক্ষর জানতেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত রেহেনা বানুর স্বামী আনিছুল হক বলেন, ওই জমি আমার স্ত্রীকে দান করেছি। এ কারণে ওই জমির অন্য কেউ মালিকানা দাবি করতে পারে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত