কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ২৪টি টিআর (গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ) ও ২০৪টি কাবিখার (কাজের বিনিময়ে খাদ্য প্রকল্প) ১০ শতাংশ কাজ না করেই বাকি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে বৌলাই ইউনিয়নে। এখানে ভুয়া মসজিদের নামে দেওয়াসহ ১৫টির প্রকল্পের মধ্যে একটিরও কোনো কাজ না করেই সম্পূর্ণ টাকা নেতাকর্মীদের পকেটে ঢুকেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত বৌলাই ইউনিয়ন পরিষদ মাঠের পূর্ব পাশে গর্ত ভরাট, মসজিদের মাঠে মাটি ভরাট, ভরাটিচরপাড়া মসজিদের সামনে থেকে ভরাটি পর্ধানির বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ, পাটধা নয়াপাড়া পাকা রাস্তা থেকে সেহড়া পাকা রাস্তায় আংশিক মাটি ভরাট, মইশাখালী আব্দুল আলী জামে মসজিদের মাঠে মাটি ভরাটের কোনো কাজ না করেই বরাদ্দকৃত চাল ও অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ করে আশপাশের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বাকি দুই একটি ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্প ছাড়া সবগুলোতে একই অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৌলাই ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, টিআর প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত ভট্টাচার্য্য পাড়া বাবুর বাড়ির সামনে বিলুপ্ত সিএসের রাস্তা মেরামত আংশিক হলেও অন্য প্রকল্পগুলোতে একেবারেই কাজ হয়নি বলে জানিয়েছে প্রকল্প এলাকার লোকজন।
বরাদ্দকৃত প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা জানান, বরাদ্দকৃত চাল এবং নগদ টাকার ব্যাপারে আমরা কিছুই জানি না। টিআর প্রকল্পে ইউনিয়নজুড়ে নূর মোহাম্মদ জামে মসজিদ নামে কোনো মসজিদের অস্তিত্ব খুঁজে না পেলেও মসজিদটির উন্নয়ন ব্যয় বাবদ উত্তোলন করা হয়েছে ৪৩ হাজার ৩০০ টাকা। সোনু মিয়ার বাড়ি থেকে মফিজ উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা মেরামত ও তেরহাসিয়া জাকিরের বাড়ির সামনের রাস্তা মেরামত বাবদ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে ৮৬ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত মাটির এ রাস্তাটিতে কোনো ধরনের কাজ হয়নি।
তবে বৌলাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বোরহান উদ্দিন দাবি করেন, টিআর ও কাবিখার কাজগুলো এক বছর আগে সম্পন্ন করা হয়েছে। যার জন্য ভরাটকৃত মাটি বৃষ্টির পানিতে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে, এমনকি এলাকায় ঘাসও ভরে গেছে। যার জন্য মাটি ভরাটের কোনো দাগ বুঝা যায়নি এখন। তবে আমরা সঠিকভাবেই কাজ করেছি।
এ ব্যাপারে জানতে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদের সঙ্গে যোগাযাগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু এলাকায় কম কাজ হলেও তা আবার পরে করিয়ে নিয়েছি। বেশির ভাগ এলাকায় তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
