সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যাসহ নানান ইস্যু থাকলেও রাজপথে বিএনপির তৎপরতা শূন্য বলে মনে করছেন দলটির বড় অংশের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, দুই-একজন সংবাদ সম্মেলনের নামে শুধু লিপ সার্ভিস দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। দলের নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের দাবি, কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে নামুক দল।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। তাদের দায়িত্ব বেশি। তাদেরই আগে এগিয়ে আসতে হবে। ফ্রন্টের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ অক্টোবর কর্মসূচি রয়েছে তাদের। সেখান থেকে দিকনির্দেশনা আসবে।
দলের নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিএনপি তো বসে নেই। কর্মসূচির মধ্যেই রয়েছে। দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে মাত্র কয়েক দিন আগে বিভাগীয় সমাবেশ শেষ হয়েছে। এরপর দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বসে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবেন। আজ বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন তারা। এছাড়া দলের করণীয় নির্ধারণে বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠক করবেন।
তিনি বলেন, দলের পাশাপাশি বিএনপি সংসদ সদস্যরা চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তারা তাদের মতো করে চেষ্টা করছেন। তাদের সঙ্গে আমরাও আছি। আইনজীবীরা চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা বলেন, বুয়েটে নিহত আবরার ফাহাদের বিষয়ে ছাত্রদল রাজপথে রয়েছে। তারা নিয়মিত প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।
সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বিষয়ে মোশাররফ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগে যা হচ্ছে এটা তাদের প্রাপ্য। তাদের আরও ভুগতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
চেকআপের জন্য বর্তমানে সিঙ্গাপুরে রয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিঙ্গাপুরে চেকআপ শেষে তিনি অস্ট্রেলিয়া যাবেন। সেখানে একটা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরবেন। এছাড়া দেশের বাইরে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। উন্নত চিকিৎসার জন্য দুই-এক দিনের মধ্যে দেশের বাইরে যাবেন নজরুল ইসলাম খান। শনিবার স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠক থাকলেও তা হয়নি। এ কারণে সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠক করতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে সরকার দুঃশাসন, ব্যর্থতায় একের পর এক ইস্যু, এত সুযোগ তৈরি হয়েছে অথচ রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি মাঠে নেই। এ নিয়ে সারা দেশের জনগণের পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা হতাশ। শুধু তাই নয়, দেশের বাইরে থেকেও নেতাকর্মীরা ফোন করে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রাজপথে কর্মসূচি না থাকার কারণে।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই নেতা বলেন, প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করলে তার গুরুত্ব থাকে না। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কোনো একক নেতা সংবাদ সম্মেলন না করে দলের স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্যদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা উচিত। তাহলে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।
বিএনপির ওই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সারা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকার দানব তৈরি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উপাচার্য, অধ্যক্ষরা লুটপাটে ব্যস্ত। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা তো অন্ধ হয়ে গেছি। কোনো কিছু দেখি না। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে দলের শীর্ষ নেতাদের উচিত জরুরি মিটিং ডাকা। মিছিল-মিটিংয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা। কিন্তু তার কিছু দেখছি না। আমরা ছোটখাটো পদে আছি। যারা বড় পদে আছেন তারা কী করেন দেখি।’
