আবরারের ভাইকে মারধর, পুলিশ বলছে ধাক্কাধাক্কি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৩০ এএম

কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গায় আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফায়াজ ও তার দুই নারী স্বজনকে পুলিশ মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার ফায়াজ তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে মারধরের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ফাইয়াজ তার স্ট্যাটাসে অভিযোগ করে জানান, পুলিশ তাকেসহ স্বজনদের মারধর করেছে।

তবে পুলিশ বলছে, ঘটনাস্থলে অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে অনেকের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। কাউকে মারধর করা হয়নি।

গতকাল আবরার ফাহাদের গ্রামে যান বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। এরপর আবরারের বাড়ি যেতে চাইলে

এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় ফাইয়াজ ও তার স্বজনরা সেখানে ছিলেন।

ফায়াজ তার ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ‘আজকে অফফরঃরড়হধষ ঝচ (উনি বলেন উনার নাম মোস্তাফিজুর রহমান) কোথা থেকে সাহস পায় আমার গায়ে হাত দেয়ার? আমার ভাবি কে মারছে? নারীদের গায়ে নিষ্ঠুরভাবে হাত দেয়? এই চাটুকারদের কি বিচার হবে না? তিনি কালকে ২ মিনিটে জানাজা শেষ করতে বলেন কিভাবে? যেই ছাত্রলীগ মারল তারা কেন সর্বত্র? আমার বাবাকে হুমকি দেয়া হয়েছে আপনার আর এক ছেলে ঢাকা থাকে আপনি কি চান তার ক্ষতি হোক....গ্রাম-এ বলা হয়েছে কেউ কিছু করলে ১ সপ্তাহ পর গ্রামের সব পুরুষ জেলে থাকবে। বিচার চাই...আমি বিচার চাই...নয়তো আমাকে মেরে ফেলুন বাবা-মা কষ্ট একবারে পাবে।’

গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বুয়েট ভিসি অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম আবরারের গ্রামের বাড়ি কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছান। এরপরই এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে পড়েন। আবরারের মৃত্যু, তার জানাজায় বুয়েট উপাচার্যের উপস্থিত না থাকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ জানান এলাকাবাসী।

ফাইয়াজ গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘অ্যাডিশনাল এসপি মোস্তাফিজুর রহমান কনুই দিয়ে আমার বুকে আঘাত করে। আমার এক ভাবিকেও লাঞ্ছিত করেছে। আমার ভাইকে মেরে ফেলা হয়েছে, এখন আমাকেও মারতে চাইছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ভিসি স্যারের কাছে জানতে চাইলাম আমার ভাইয়ার খুনিদের এখনো কেন বহিষ্কার করা হয়নি। এ সময় তিনি নীরব ছিলেন। আমি আমার ভাইয়ের হত্যা সম্পর্কে আরও প্রশ্ন করতেই তিনি কোনো জবাব না দিয়ে গাড়িতে উঠে চলে যাওয়ার মুহূর্তে মোস্তাফিজুর রহমান আমার বুকের ওপর হাত দিয়ে মারাত্মকভাবে আঘাত করেন। এতে আমি মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে ফাইয়াজ বলেন, ‘আমার ভাইয়াকে হত্যা করা হয়েছে, আর আমাদের পুলিশ হুমকি দিচ্ছে। প্রয়োজনে আমিও জীবন দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

তবে ফাইয়াজের করা অভিযোগের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ফাইয়াজ উপাচার্যকে মারতে উদ্যত হলে আমি তা নিরসন করি। এ ছাড়া আশপাশের কয়েকজন উপাচার্যের দিকে তেড়ে আসেন। আমি কারও গায়ে হাত তুলিনি। সেখানে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত