প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত সেগুলোকে ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রথম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। একইসঙ্গে ওইসব চুক্তি বাতিল ও বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে বিএনপির পক্ষ থেকে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
করেন তিনি। দলটি বলছে, এসব চুক্তি নিজ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে শক্তিমান প্রতিবেশীকে খুশি করে ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখার সাময়িক ও ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, আগামীকাল শনিবার ১২ অক্টোবর ঢাকাসহ দেশের সব মহানগরে জনসমাবেশ এবং আগামী রবিবার ১৩ অক্টোবর দেশের সব জেলা সদরে জনসমাবেশ করবেন তারা।
গত বুধবার রাতে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। লিখিত বক্তব্যে মোশাররফ হোসেন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নয়, এমন একটি শক্তি যখন কৌশলে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে তখন তার পরিণতি দেশ ও জনগণের জন্য কতটা ভয়াবহ ও ক্ষতিকারক হয়, তার সাম্প্রতিক প্রমাণ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের ফলাফল। তিনি বলেন, এর আগেও ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা যা দিয়েছি ভারত তা চিরদিন মনে রাখবে। তাহলে এবার আরও এত কিছু দেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? বিদেশিদের গ্যাস দিতে রাজি হননি বলে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারেননি। তাহলে এবার আমদানি করা ডিউটি ফ্রি এলপিজি দেওয়ার উদ্দেশ্য কী?
খন্দকার মোশাররফ বলেন, বহু বছর ধরে তিস্তা এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার ব্যাপারে শুধুই আশ্বাস চলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী তার ভারত সফরে ফেনী নদীর পানি দেওয়ার অঙ্গীকার করে এসেছেন। আসামের নাগরিকপঞ্জির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক লাখ আসামবাসীকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ আসাম রাজ্য ও কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের স্পষ্ট হুমকির মুখে দুই প্রধানমন্ত্রীর যৌথ বিবৃতিতে এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো স্পষ্ট প্রতিশ্রুতির উল্লেখ নেই। ভারতে পাটজাত দ্রব্যসহ অন্যান্যে পণ্য রপ্তানির ওপর আরোপিত অন্যায় বাধা অপসারণে নিশ্চয়তা আদায় করতেও সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বিএনপি নেতা মোশাররফ বলেন, চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশের অবকাঠামো, নাগরিক পরিবহন চলাচল এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির নিশ্চিত সম্ভাবনা রয়েছে। সমুদ্র উপকূলে যৌথ নজরদারির ফলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের স্বার্থ অনিশ্চয়তায় ঝুলিয়ে রেখে অন্যের স্বার্থ পূরণ করা সরকারের নতজানু নীতিরই প্রমাণ। ভারতে এলপিজি রপ্তানি চুক্তির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এলপিজি আমদানি করে। প্রতিবেশীর প্রয়োজনে তা রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে ওমেরা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড ও বেক্সিমকো এলপিজি ইউনিটকে লাভবান করার এই উদ্যোগ ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বিশেষকে লাভবান করবে, দেশকে নয়। ভারতকে এই সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে আমরা ‘ঠাকুর শান্তি পুরস্কার’ ছাড়া কী পেলাম?
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ, মো. শাহজাহান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।
১৫ অক্টোবর আবরারের স্মরণসভা করবে ২০ দল : গতকাল সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আগামী ১৫ অক্টোবর আবরারের জন্য স্মরণসভা করার সিদ্ধান্ত নেন জোটের নেতারা। তবে এখনো ভেনু নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাজধানীর যে কোনো একটি মিলনায়তনে সভাটি করবে ২০ দল।
বৈঠকে অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবদুল হালিম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, জাগপার খন্দকার লুৎফর রহমান ও আসাদুর রহমান খান, ডিএলের সাইফুদ্দিন আহমেদ মনিসহ জোটের নেতারা। সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নেতা নুর হোসেন কাশেমী।
