বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (ইইই) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচার দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ, মিছিল, সমাবেশ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এদিকে ঢাকা কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ (ইবি) বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা ছাত্রলীগ শোক র্যালি করেছে।
শেকৃবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাদা দলের শিক্ষকরা। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে শিক্ষক নেতারা আবরার হত্যার তীব্র নিন্দা জানান। দেশের আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেন কেউ এমন কাণ্ডের সাহস না দেখায় তার জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান শিক্ষকরা। ঢাকা কলেজ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আবরার হত্যার স্মরণে শোক র্যালি করেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে শুরু হয়ে টিএসটিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের র্যালির সঙ্গে মিলিত হয়। এতে অংশ নেন কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামালউদ্দিন মাহি, শেখ রাসেল, রাসেল মাহমুদ, বাপ্পী হাওলাদার, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রহমতউল্লাহ, মাইনুল, রুমান মাহমুদ, মির্জ্জা প্রমুখ। এ সময় তাদের হাতে ছিল ‘অপরাধের কোনো দল নাই’, ‘ছাত্রলীগে অপরাধীদের ঠাঁই নাই’, ‘আবরার হত্যার বিচার চাই’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড।
রাবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নিহত আবরার স্মরণে ক্যাম্পাসে শোক র্যালি করেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগ। র্যালিটি গ্রন্থাগারের পেছনে অবস্থিত সংগঠনটির দলীয় টেন্ট থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে মিলিত হয়। পরে র্যালি থেকে নেতাকর্মীরা আবরার হত্যায় জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান। এতে রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।
ইবি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও স্মরণে শোক র্যালি করেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। এদিন দুপুর ২টার দিকে ছাত্রলীগের দলীয় টেন্ট থেকে শোক র্যালিটি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে এসে মিলিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক ফয়সাল সিদ্দিক আরাফাত, তৌকির মাহফুজ মাসুদ, সোহাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। র্যালি-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তৌকির মাহফুজ মাসুদ বলেন, ‘এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ছাত্রলীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেপ্তার করেছে। তবুও একটি মহল বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।’
