পিয়ন থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক আনিস

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২৫ এএম

তিন হাজার টাকা বেতনে ২০০৩ সালে আওয়ামী যুবলীগ অফিসের পিয়ন হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন যুবলীগের বহিষ্কৃত দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিস। ২০১২ সালে যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের পর ভাগ্য বদলে যায় তার। পিয়ন থেকে পদোন্নতি পেয়ে দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্ব পান।

কাজী আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর ভাগবাটোয়ারা, চাঁদাবাজি, দরপত্র থেকে কমিশন আদায় এবং সংগঠনের বিভিন্ন কমিটিতে পদ-বাণিজ্য করে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। গত পনের দিন ধরে কাজী আনিস আত্মগোপনে আছেন। তিনি দলীয় কার্যালয়ে যাচ্ছেন না, বাড়িতেও তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১২ সালে তার বেতন তিন হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে সাত হাজার টাকা। এত স্বল্প বেতন পেলেও মাত্র সাত বছরের মধ্যেই কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার মালিক হন তিনি। কম্পিউটারে নিয়মিত সারা দেশের যুবলীগ কমিটির তালিকা তৈরি করতে গিয়ে সব তথ্য তার মুখস্থ। এ কারণে চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর (যুবলীগ প্রধান) ঘনিষ্ঠ হয়ে যান তিনি। যুবলীগের নতুন কমিটি গঠনের সময় আনিসকে উপ-দপ্তর সম্পাদক করা হয়। দপ্তর সম্পাদক পদটি খালি থাকায় ছয় মাসের মধ্যে সে ওই পদ পেয়ে যায়। রাজধানী ঢাকার শুক্রাবাদে বিশাল বাড়ি ছাড়াও ধানম-িতে রয়েছে অনেক ফ্ল্যাট। ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল অর্থ জমা রয়েছে। দুটি জাহাজও তিনি কিনেছেন। এছাড়া বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

শরীয়তপুর জেলার পালং উপজেলার বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল হাশেম  যুবলীগ অফিসে পিয়নের এই চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ছেলেটি বড়ই অসহায়। কম্পিউটার চালাতে জানে। যুবলীগ নেতাদের চা-পানি এনে খাওয়ানোই ছিল আনিসের কাজ। সংগঠনের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আনিস যুবলীগের কার্যালয়ে আসার আগে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। যুবলীগের দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রথমে ধানম-িতে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কেনেন। আড়াই হাজার বর্গফুটের ওই ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন। পরে ধানম-ির ১০/এ সড়কের একটি ফ্ল্যাট কিনে সেখানে থাকা শুরু করেন আনিস। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ভাবড়াসুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে আলিশান বাড়ি, পেট্রলপাম্পসহ অনেক কৃষিজমি করেছেন আনিস। বাড়ি, ফ্ল্যাট ছাড়াও দোকানের সংখ্যা ২০টির ওপর। জানা গেছে, রাজধানীর শুক্রাবাদে কাঁচাবাজারের পাশের সাততলা বাড়ির ১৩টি ফ্ল্যাটের মালিক কাজী আনিস। ধানমন্ডি ৯ নম্বর সড়কে যুবলীগ চেয়ারম্যানের অফিস। সেই অফিসের উপরের ফ্লোরটি তাই কিনেই নিয়েছেন আনিস। প্রায় চার হাজার বর্গফুট! প্রতি বর্গফুটের খরচ ১৪ হাজার ৪৬০ টাকা। সব মিলিয়ে দাম পড়েছে ৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকারও বেশি। সম্প্রতি, ক্যাসিনো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান শুরু হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়া যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিসকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত