পিটার হান্দকে সাহিত্যে নোবেল পাওয়ায় ক্ষোভ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৮ এএম

সাহিত্যে অস্ট্রিয়ার লেখক পিটার আর হান্দকের নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আলবেনিয়া, বসনিয়া ও কসোভো। দেশ তিনটি হান্দকেকে ‘বলকানের কসাই’ নামে কুখ্যাত সার্ব নেতা সেøাবোদান মিলোসেভিচের কট্টর সমর্থক বলে মনে করে।

নব্বইয়ের দশকে যুগো যুদ্ধের সময় হান্দকে সার্বদের সমর্থন দেন এবং তাদের পক্ষে জোর প্রচার চালান। তৎকালীন সময়ে তিনি সার্বদের অসহায় অবস্থার বর্ণনা করতে তাদের ইহুদিদের সঙ্গে তুলনা করেন। অবশ্য পরে তিনি ওই বক্তব্য দেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।

আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এডি রামা এক টুইটবার্তায় লেখেন, ‘কখনো ভাবিনি নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম শুনে আমার বমি আসবে। নোবেল অ্যাকাডেমির মতো একটি নৈতিক কর্র্তৃপক্ষ এ রকম অসম্মানজনক কাউকে বেছে নেবে ভাবতে পারিনি। লজ্জাই এখন তাহলে নতুন মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। না, আমাদের পক্ষে বর্ণবাদ এবং গণহত্যা নিয়ে এতটা অনুভূতিশূন্য হওয়া সম্ভব না।’

হান্দকের নোবেল পুরস্কার পাওয়াকে ‘কলঙ্কিত ও লজ্জাজনক’ বলে বর্ণনা করেন বসনিয়ার যৌথ প্রেসিডেন্সির মুসলমান সদস্য সেফিক জাফেরোভিচ। তিনি বলেন, ‘হান্দকে কুখ্যাত সার্ব নেতা  স্লোবোদান মিলোসেভিচের সমর্থক এবং তাকে সুরক্ষা দিয়েছেন জানার পরও নোবেল প্রাইস কমিটি কতটা সহজে ওই বিষয়গুলোর সঙ্গে আপস করেছে, যা সত্যিই লজ্জাজনক। অথচ মিলোসেভিচ, তাদের নেতা র‌্যানডোভান কারাদজিক এবং তাদের সেনাপ্রধান রাৎকোমøাদিচকে গণহত্যাসহ সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধাপরাধের জন্য জাতিসংঘের একটি আদালত দোষী সাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দিয়েছে।’

কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচির টুইটবার্তায় বলেন, ‘হান্দকেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুদ্ধের ভয়াবহতার শিকার অসংখ্য মানুষের জন্য অপরিসীম কষ্ট বয়ে নিয়ে এসেছে।’

২০০৬ সালে মিলোসেভিচের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়েও দারুণ বিতর্কিত হয়েছিলেন হান্দকে। অস্ট্রিয়ান এই লেখক ২০১৪ সালে নোবেল পুরস্কার বিলোপের বিতর্কিত দাবিও তুলেছিলেন। ১৯৯৬ সালে হান্দকের ভ্রমণকাহিনী ‘এ জার্নি টু দ্য রিভার্স : জাস্টিস ফর সার্বিয়া’ প্রকাশ পেলে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত