কৃষকের ছেলে থেকে শান্তির দূত আবি আহমেদ

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৫ পিএম

শান্তিতে শততম নোবেল পুরস্কারটি যাচ্ছে ইথিওপিয়ায়। শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয় ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকে। প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিবাদ মীমাংসা ছাড়াও আরও অনেক অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। শান্তির দূত হতে যে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন আবি তা নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার

বহু কারণেই এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ছিল আলোচিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে পুরস্কার দেওয়ার আগেই কে হবেন সম্ভাব্য বিজয়ী, তা নিয়ে অনেক আলোচনা চলেছে বিগত কয়েক মাস ধরে। সম্ভাব্যদের তালিকায় সবার প্রথমেই ছিল গ্রেটা থানবার্গের নাম। ধারণা করা হচ্ছিল, জলবায়ু ইস্যুতে আলোচিত ‘#ফ্রাইডেজ ফর ফিউচার’ আন্দোলন সারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবচেয়ে কমবয়সী হিসেবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হবেন সুইডিশ কন্যা থানবার্গ। সম্ভাব্যদের তালিকায় ওপরের দিকেই ছিল নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আর্ডেনের নামটিও। এছাড়া ব্রাজিলের আদিবাসী নেতা ও পরিবেশ আন্দোলনকর্মী রাওনি মেতুকতিরের নামও শোনা যাচ্ছিল।

নোবেল শান্তি পুরস্কারের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর নোবেল পুরস্কারের জন্য ৩০১টি মনোনয়ন জমা পড়ে। এর মধ্যে ছিল ২২৩ জন ব্যক্তি এবং ৭৮টি প্রতিষ্ঠান। তবে, কারা কারা এই তালিকায় ছিলেন সে সম্পর্কে পঞ্চাশ বছর পর তথ্য প্রকাশ করবে নরওয়ের নোবেল কমিটি। সবাইকে পেছনে ফেলে এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচকরা ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদকেই বেছে নেন। শান্তি স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভূমিকার জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সীমান্ত যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পরে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ২০ বছরের সামরিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে আবি আহমেদের হাত ধরে।

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি আরও একটি কারণে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। নোবেল ইতিহাসে এই পুরস্কারটি শততম শান্তি পুরস্কার। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। আগামী ডিসেম্বরে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আবি আহমেদের হাতে তুলে দেওয়া হবে পুরস্কারটি।

পুরস্কারের অর্থ হিসেবে আবি পাবেন ৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার বা ৯ লাখ ডলার। পুরস্কারের জন্য নিজের নামটি শুনে আবি এক বার্তায় বলেন, ‘আমি বিনীত এবং শিহরিত।’

নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির সেক্রেটারির সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি বলেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ। এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে আফ্রিকাকে। দেওয়া হয়েছে ইথিওপিয়াকে। আমি দেখতে পাচ্ছি, আফ্রিকার বাকি নেতারা এই পুরস্কারটিকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করবেন এবং এই মহাদেশে শান্তির জন্য নিজেদের উৎসর্গ করবেন।’

আবি আহমেদের অবদান

গত বছরের এপ্রিলে ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন আবি আহমেদ। ক্ষমতায় আসার পরই ইথিওপিয়ায় ব্যাপক উদারনীতি গ্রহণ করেন তিনি। এর আগে ইথিওপিয়ানরা ছিল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এক জাতি।

আবি আহমেদ ক্ষমতায় এসে কয়েক হাজার বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক কর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেন। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক কারণে নির্বাসিত দেশটির অনেক নেতাকে তিনি দেশে ফিরিয়ে আনেন। প্রথা ভেঙে তার অধীনে রাষ্ট্রীয় অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারীদের পদায়ন করা হয়।

আবি আহমেদকে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব দিতে হয় ইরিত্রিয়ার সঙ্গে তার দেশের দীর্ঘ দুই দশকের বিবাদ মেটানোর জন্য। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে প্রায় ৭০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

এছাড়াও ইথিওপিয়ার জাতিগত ভেদাভেদ বহু বছর ধরেই দেশটিকে অশান্ত করে রেখেছিল। ফলে দাঙ্গা-হাঙ্গামায় দেশটিতে বহু নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটির প্রায় ২৫ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছে। আবি আহমেদ ক্ষমতায় আসার পর এ ধরনের জাতিগত সহিংসতা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গত জুলাইয়ে ইথিওপিয়ায় একদিনে ৩৫ কোটি গাছ রোপণ করা হয়। খরাপ্রবণ এই দেশটিতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করা এবং দেশটিকে বন উজাড় হয়ে যাওয়ার অবস্থা থেকে বাঁচাতে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন। সরকারি কর্মকর্তারাও যেন বৃক্ষরোপণ কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান সে জন্য সরকারি অফিসও বন্ধ রাখা হয় সেদিন।

এখানেই শেষ নয়। ইথিওপিয়া স্থানীয় জাতের মোট ৪ বিলিয়ন গাছ লাগানোর পরিকল্পনা করেছে।

যে ভূমিকাটি সবচেয়ে আলোচিত

শান্তি পুরস্কার ঘোষণার সময় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি বলে, ‘৪৩ বছর বয়সী আবি আহমেদ শান্তি পুরস্কারে সম্মানীত হয়েছেন প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষ থামানোর জন্য।’

নোবেল কমিটি থেকে বলা হয়, ‘ইথিওপিয়া এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব আফ্রিকায় যারা শান্তি এবং পুনর্মিলনে ভূমিকা রেখেছেন তাদের সবার অংশীদারত্ব রয়েছে এই পুরস্কারে।’

আরও বলা হয়, ‘যে কোনো একটি দলের উদ্যোগে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। যখন প্রধানমন্ত্রী শান্তির জন্য তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আফোয়ার্কি সেই হাতটিকে ধরেছিলেন এবং দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্য কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। নোবেল কমিটি আশা করে এই শান্তিচুক্তি বিবাদমান দুই দেশ ইথিওপিয়া এবং ইরিত্রিয়ার মানুষের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে সক্ষম হবে।’

ইরিত্রিয়ার সঙ্গে যখন শান্তিচুক্তিটি সম্পন্ন হয় তখন আবি আহমেদ ছিলেন আফ্রিকার সবচেয়ে কম বয়সী নেতা। শুধু ইরিত্রিয়ার সঙ্গেই শান্তিচুক্তি নয়, বরং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে চলমান শান্তি প্রক্রিয়ায় আবি আহমেদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে স্মরণ করেছে নোবেল কমিটি। তার এ ধরনের উদ্যোগের সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো- সুদানের শান্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ। কয়েক মাসের ধারাবাহিক আন্দোলনের পর দেশটির সামরিক নেতারা এবং বেসামরিক বিরোধীদলীয় নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত শান্তিচুক্তিতে মধ্যস্থতা করেন আবি।

পুরস্কার ঘোষণার পর আবি আহমেদের অফিস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘একতা, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সহাবস্থানের আদর্শ প্রধানমন্ত্রীকে ধারবাহিকভাবে চ্যাম্পিয়নে পরিণত করেছে। এই পুরস্কার তার প্রমাণ।’

এক বছরের কিছু বেশি সময় আগে ক্ষমতায় এসেই ইতিহাস সৃষ্টি এবং ইথিওপিয়ার রাজনীতির প্রাণপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হন আবি আহমেদ। তার রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী ছিল না ইথিওপিয়ার মানুষ। খুব কম লোকই ভেবেছিল তিনি ক্ষমতায় আসতে পারবেন। শুধু তাই নয়, ইথিওপিয়ান পিপলস রেভলুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের প্রধান হিসেবে ক্ষমতায় এসে তিনি যে বিগত দিনের সব হিসাব বদলে দেবেন তা অনেকেই ভাবেননি।

তার সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য অর্জন ইরিত্রিয়ার সঙ্গে তিক্ত সীমান্ত বিরোধের অবসান। জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি এক রকস্টারের আমন্ত্রণে ইরিত্রিয়ার রাজধানী আসমারায় ছুটে গিয়েছিলেন। দুই দেশের মধ্যে দুই দশকের দ্বন্দ্বের কারণে ক্লান্ত হয়ে ওঠা জনগণের কাছে এটা ছিল তার জনপ্রিয়তার নিদর্শন। সুদান থেকে শুরু করে সোমালিয়া এবং জিবুতিতে যে শান্তি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে সেখানেও তিনি মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।

অন্যদের প্রতিক্রিয়া

আবি আহমেদের নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের খবরে আফ্রিকার প্রায় সব নেতাই তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট মোহামেদ ফারমাজো এক টুইট বার্তায় বলেন, ‘শান্তি পুরস্কারের যোগ্য বিজয়ী আবি। আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য তার সঙ্গে কাজকে আমি দারুণ উপভোগ করেছি।’

লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ উয়েহ নোবেল বিজয়ী আবিকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। ঘানার প্রেসিডেন্ট নানা আকুফো আড্ডো বলেন, ‘এই পুরস্কার আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে একমাত্র শান্তিই হতে পারে আফ্রিকার শোচনীয় অবস্থার সমাধান।’

নরওয়েজিয়ান শরণার্থী কাউন্সিলের প্রধান জেন ইগল্যান্ড আবিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘তার প্রধান কাজ হবে এখন ইথিওপিয়ার জাতিগত সংকট নিরসনে নজর দেওয়া।’

আবি’র পদকপ্রাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। তবে, এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, ‘আবিকে আরও বহু পথ হাঁটতে হবে।’ এছাড়া ইথিওপিয়ার জাতিগত সহিংসতাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবেন আবি এমনটাই আশা অ্যামনেস্টির।

ইথিওপিয়ার নামকরা ব্যবসায়ী ৪৫ বছর বয়স্ক বিসরাত হাতে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অর্থনীতির উন্নয়নেও আবিকে ভূমিকা রাখতে হবে এবং জীবনযাত্রার খরচ কমিয়ে আনতে হবে।’

যেখান থেকে উঠে এসেছেন

মধ্য ইথিওপিয়ার বেশাশা শহরে ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন আবি। তার কৃষক বাবা ছিলেন মুসলিম আর মা ছিলেন খ্রিস্টান। তার বাবা আহমেদ আলী চারটি বিয়ে করেছিলেন। আবি ছিলেন আহমেদ আলীর ত্রয়োদশ সন্তান। আর মায়ের দিক থেকে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ এবং সর্বকনিষ্ঠ সন্তান। শিশুকালে তার ডাকনাম ছিল আবিয়ত, যার অর্থ হলো- বিপ্লব। স্থানীয় একটি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার জন্য তিনি আগারো শহরে গমন করেন। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, অন্যদেরও পড়াশোনায় উৎসাহ দিতেন। ইন্টারন্যাশনাল লিডারশিপে মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়াও শান্তি এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন।

১৯৯১ সালে নিজের বড় ভাই নিহত হলে কিশোর বয়সেই ইথিওপিয়ার তৎকালীন কমিউনিস্ট সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ নেন আবি। সশস্ত্র দল ওরোমা ডেমোক্রেটিক পার্টিতে তিনি যখন যোগ দেন তখন এই দলটিতে মাত্র ২০০ জন যোদ্ধা ছিল। তবে, বছর শেষ হওয়ার আগেই এই দলের যোদ্ধা সংখ্যা লাখ ছুঁয়ে ফেলে। এই বাহিনী দেশটির কমিউনিস্ট শাসক মেঞ্জিৎসু হেলি মারিয়ামের পতন ঘটায়। যুদ্ধের পর উচ্চতর সামরিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন আবি। পরে রুয়ান্ডায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রতিবেশী দেশ ইরিত্রিয়ার সঙ্গে ইথিওপিয়ার সীমান্ত সংঘর্ষের সময় একটি গোয়েন্দা দলের নেতৃত্ব দেন। এই যুদ্ধের পর নিজের শহরে মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সেখানেও সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বেই ২০০৮ সালে গঠিত হয় ইথিওপিয়ান ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি এজেন্সি। এই প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন আবি। সংগঠনটির প্রধান আততায়ীর হাতে নিহত হলে প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন।

আবি আহমেদ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন ২০১০ সালে। ওরোমা পিপলস ডেমোক্রেটিক অরগানাইজেশনে যোগ দিয়ে সে বছরই তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি এমপি থাকাকালীন ইথিওপিয়ায় মুসলিম এবং খ্রিস্টানদের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ ঘটাতে শান্তির জন্য ধর্মীয় ফোরাম গঠন করেন আবি। ২০১৫ সালে ওরোমা পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির নির্বাহী সদস্য হন। এর পর থেকেই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেন তিনি। সে বছরই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। এরই ধারাবাহিকতায় ওরোমা পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং ইথিওপিয়ান পিপলস  রেভলুশনারি ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে ২ এপ্রিল ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

আবি আহমেদের স্ত্রী জিনাশ তায়চিউ ইথিওপিয়ার সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তাদের তিনটি কন্যাসন্তান এবং সম্প্রতি এক পুত্রসন্তান দত্তক নিয়েছেন। ইংরেজি, আফান ওরোমো, আমারিক, টিগ্রিয়ানা-সহ বেশ কয়েকটি ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন আবি দম্পতি।

শান্তিতে পূর্ববর্তী নোবেল বিজয়ীরা

নোবেল শান্তি পুরস্কারকেই পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে অভিহিত করা হয়। ২০০৯ সালে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয় বারাক ওবামাকে। মানুষে মানুষে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সাফল্যের জন্য তাকে এই পুরস্কার দেওয়া হলেও সেবার কিছু সমালোচনার শিকার হয় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি।

অন্য নোবেল বিজয়ীদের মধ্যে ২০০২ সালে মার্কিন প্রেমিডেন্ট জিমি কার্টার, ২০১২ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, ২০০১ সালে তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান এবং ১৯৭৯ সালে মাদার তেরেসার নাম উল্লেখযোগ্য। এর মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ নোবেল বিজয়ী হিসেবে শিশুশিক্ষাকর্মী মালালা ইউসুফজাই ২০১৪ সালে শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হন। পুরস্কারের প্রাপ্তি হিসেবে প্রত্যেকেই কাজ এবং কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ একটি নোবেল ডিপ্লোমা লাভ করেন। প্রত্যেককেই একটি নোবেল মেডেল প্রদান করা হয়। এছাড়া ৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার প্রদান করা হয় বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা। প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত