ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:১৫ পিএম

ক্যানসারের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় কেমোথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা। যার মাধ্যমে ক্যানসারের সেলগুলোকে ধ্বংস করা হয় এবং এর বিস্তার থামানো হয়। তবে সব ধরনের ক্যানসারের জন্য এক ধরনের চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়। কেমোথেরাপির সর্বোচ্চ ভালো ফলাফলের জন্য আট ধরনের ওষুধের সমন্বয় ঘটানো হয়। অধিকাংশ সময় কেমোথেরাপির কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু আধুনিক কিছু কেমোথেরাপি অল্প সমস্যা তৈরি করে।

কখন কেমোথেরাপি দেওয়া হয়?

কেমোথেরাপির ওষুধ রক্তের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানো হয়। এটি তখন পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ক্যানসারের সেল যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই ধ্বংস হবে। অনেক সময় স্যালাইনের মতো কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। কেমোথেরাপি তখনই দেওয়া হয়, যখন ডাক্তাররা মনে করেন, ক্যানসারের সেল শরীরের একাধিক জায়গায় আছে। ক্যানসার যদি শনাক্ত করা না যায়, তখন এর কিছু সেল মূল টিউমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আশপাশের অংশে আক্রমণ করে। অনেক সময় ক্যানসার সেল অনেক দূর পর্যন্ত যায়। যেমন : লিভার কিংবা ফুসফুসে গিয়ে ছড়াতে থাকে। একজন চিকিৎসক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসার টিউমারের এবং এর আশপাশের টিস্যু কেটে ফেলতে পারেন।

রেডিওথেরাপির মাধ্যমেও ক্যানসার সেল ধ্বংস করা যায়।

কেমোথেরাপি কীভাবে কাজ করে?

ক্যানসার সেলের জন্য কেমোথেরাপি হচ্ছে এক ধরনের বিষ। এতে ক্যানসার সেল ধ্বংস হয়। এটাকে বলা হয় সাইটোটক্সিক কেমিক্যাল। তবে যে জিনিসটিকে শরীরের ক্যানসার সেলের জন্য বিষাক্ত দেখা হচ্ছে, সেটি শরীরের সুস্থ-স্বাভাবিক কোষকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। কেমোথেরাপি এমন একটি জিনিস, যেটি শরীরের ক্ষতিকারক ক্যানসার কোষগুলোকে যতটা সম্ভব খুঁজে বের করে ধ্বংস করে এবং ভালো কোষগুলোকে যতটা সম্ভব কম ধ্বংস করে। কেমোথেরাপির পর শরীরে বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসকরা এখন অনেক বেশি সাফল্য পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে শরীরের ক্যানসার কোষ এবং এর আশপাশের ভালো কোষগুলোকে চিহ্নিত করে আলাদা করা যাচ্ছে। শরীরের ক্যানসার কোষ এবং সুস্থ কোষের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে। ক্যানসার কোষগুলো দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পুনরায় ক্যানসার কোষ তৈরি করে। অন্যদিকে সুস্থ কোষগুলো ক্যানসার কোষের মতো দ্রুত আলাদা হয় না এবং বিস্তার লাভ করে না। ক্যানসার কোষগুলো যেহেতু দ্রুত

বিস্তার লাভের মাধ্যমে নতুন কোষ তৈরি করে, সে জন্য টিউমার তৈরি হয়।

কেমোথেরাপি কীভাবে দেওয়া হয়?

সাধারণত ইনজেকশনের মাধ্যমে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। অনেক সময় স্যালাইন যেভাবে দেওয়া হয়, কেমোথেরাপিও সেভাবে দেওয়া হয়। এতে ওষুধ কিছুটা পাতলা হয়ে আসে। কেনো রোগীকে যদি অন্য ওষুধও নিতে হয়, তখন তার শিরায় একটি ইনজেকশনের টিউব রেখে দেওয়া হয়। যাতে করে বিভিন্ন ধরনের ওষুধের জন্য বারবার সেটি খুলতে এবং লাগাতে না হয়। এতে রোগীর অস্বস্তি কম হতে পারে। কেমোথেরাপি কত দিন চলবে সেটি নির্ভর করে ক্যানসারের ধরনের ওপর। কিছু কেমোথেরাপি ১৫ দিন পরপর দেওয়া হয়। আবার কিছু এক মাস পরপর।

 

অধ্যাপক. ডা. মো. ইয়াকুব আলী

টিউমার ও ক্যানসার রোগ বিশেষজ্ঞ

অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান

মেডিকেল অনকোলোজি বিভাগ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : আল-রাজি হাসপাতাল, ফার্মগেট ঢাকা

ফোন : ০১৬৪৪-৪৩৩৪৯৮,

০১৭৩২-৪২৯৩৯০

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত