সস্ত্রীক বাঙালি অর্থনীতিবিদের নোবেল জয়

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেলখ্যাত ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’ জিতলেন ভারতের এক বাঙালিসহ ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের তিন অর্থনীতিবিদ। রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস গতকাল সোমবার চলতি বছরের বিজয়ী হিসেবে বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরাসি এস্থার ডুফো ও যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল ক্রেমারের নাম ঘোষণা করে।

পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন তারা। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। ১৯৬৮ সালে সুইডিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক ৩০০ বছর পূর্তিতে নোবেল ফাউন্ডেশনকে একটি বিরাট অঙ্কের অর্থ দান করে। এই অর্থ দিয়ে আলফ্রেড নোবেলের সম্মান রক্ষার্থে ১৯৬৯ সাল থেকে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়। আলফ্রেড নোবেলের স্মরণে এ পুরস্কারের পুরো নাম রাখা হয় ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’ যাকে সংক্ষেপে অর্থনীতির নোবেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পুরস্কারটি চালু হওয়ার ৫০ বছরের ইতিহাসে অমর্ত্য সেনের পর দ্বিতীয় বাঙালি হিসেবে এটি জিতলেন ভারতের নাগরিক অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের আরেক বিজয়ী এস্থার ডুফো অভিজিৎ বিনায়কের স্ত্রী। তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এবং দ্বিতীয় নারী হিসেবে ৪৬ বছর বয়সে অর্থনীতিতে

নোবেল পেলেন। আরেক বিজয়ী মাইকেল ক্রেমার হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট সোসাইটিসের অধ্যাপক।

নোবেল কমিটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের গবেষণা গোটা বিশ্বকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়ার নতুন

হাতিয়ারের সন্ধান দিয়েছে। মাত্র দুই দশকে তাদের গবেষণা পদ্ধতি উন্নয়ন অর্থনীতির রূপরেখা বদলে দিয়েছে। এখন অর্থনীতির গবেষণায় এটি অন্যতম পাথেয় মডেল। এ তিনজনের পরীক্ষামূলক গবেষণা পদ্ধতি ৫০ লাখের বেশি ভারতীয় শিশুকে উপকৃত করেছে।

১৯৬১ সালে মুম্বাইয়ে জন্ম অভিজিৎ বিনায়কের। নির্মলা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দীপক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সন্তান অভিজিৎ। নির্মলা কলকাতার সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সেসের অর্থনীতির অধ্যাপক। দীপক কলকাতার বিখ্যাত প্রেসিডেন্সি কলেজের অর্থনীতির অধ্যাপক ছিলেন। কলকাতায় সাউথ পয়েন্ট স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক হন অভিজিৎ। সেই বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনমিক্স।’ ১৯৮৮ সালে তিনি ওই বিষয়ে পিএইচডি অর্জন করেন।

অভিজিতের প্রথম স্ত্রী অরুন্ধতী তুলি বন্দ্যোপাধ্যায় এমআইটির প্রভাষক। তিনিও কলকাতাতেই বেড়ে ওঠেন। কবির বন্দ্যোপাধ্যায় নামে তাদের একটি ছেলেও ছিল। পরে অভিজিৎ-অরুন্ধতীর বিচ্ছেদ হয়। ২০১৬ সালে মারা যান এ দম্পতির ছেলে কবির। গবেষণার সঙ্গী এস্থার ডুফো ২০১৫ সালে অভিজিতের জীবনসঙ্গী হন। ২০১৩ সালে অভিজিৎ ও এস্থার ডুফো যুগ্মভাবে ‘আবদুল লতিফ জামিল পোভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের দারিদ্র্য নিয়ে গবেষণার জন্য। তাদের পরীক্ষামূলক গবেষণাকেই সম্মান জানাচ্ছে নোবেল কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত