গতিহীন প্রকল্পে ৩০ কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণ!

আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৪২ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ১ হাজার ২০২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। ফলে ২০১৮ সালে আরও এক বছর মেয়াদ বাড়িয়ে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ২১৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। কিন্তু চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়েছে ৭২ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করতে আরও ৫০৩ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশনে ডিএসসিসির পাঠানো এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের ওপর পর্যালোচনা শেষে প্রকল্পের দ্বিতীয় এ সংশোধনী অনুমোদন হতে পারে আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রকল্প অনুমোদনকালে ও প্রথম সংশোধনীতে ৭৮৭ জনমাস (এক মাসে কাজ করে) পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এজন্য তাদের সম্মানী বাবদ বরাদ্দ ছিল ১৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৪৫৪ জনমাস পরামর্শক বাড়ানো হয়েছে। ফলে পরামর্শকের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৪১ জনমাস। এজন্য তাদের সম্মানীর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়াবে সাড়ে ২২ কোটি টাকা। এ হিসাবে পরামর্শক সম্মানীই বাড়ছে ৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

প্রকল্পের আওতায় শুরুতেই ৩০ জন কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ রাখা হয়। এজন্য বরাদ্দ রাখা হয় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় সংশোধনীতেও এ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্থানীয়ভাবেও ১০ জন কর্মকর্তার প্রশিক্ষণের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। দ্বিতীয় সংশোধনীতেও সেটা রাখা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, কাজের গতি থাকুক আর না থাকুক, বিদেশ ভ্রমণ ঠিকই হয়। এ প্রকল্পেও হয়েছে। শুধু

সিটি করপোরেশনের প্রকল্প নয়, প্রায় সব প্রকল্পেই এই চিত্র দেখা যায়।

প্রকল্পের আওতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস-বে/বাস স্টপেজ স্থাপন এবং ছিনতাই, রাহাজানি ও অপরাধমূলক কর্মকা- ঠেকাতে রাস্তা, অলিগলিতে ৪৪ হাজার ৫৯৮টি পরিবেশবান্ধব ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এলইডি বাতি লাগানোর কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠের উন্নয়ন, ১৫৬.৭০ কিমি রাস্তা উন্নয়ন এবং ৩৬.৮০ কিমি ফুটপাত নির্মাণ, নির্বাচিত মেটারনিটি হাসপাতালের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহ, দুটি কসাইখানা ও ছয়টি ক্লিনার কলোনি স্থাপন করার কথা রয়েছে।

প্রকল্পের কাজের গতি না থাকার বিষয়ে জানতে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে বারবার মোবাইলে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। দক্ষিণ সিটির মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গেও মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে কোনো লাভ হয়নি।

প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনীর প্রস্তাবনায় ব্যয় ও মেয়াদ বাড়ার যুক্তি হিসেবে ডিএসসিসি বলছে, প্রকল্পের আওতায় ডিএসসিসির ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কাজের ড্রয়িং ডিজাইন পরিবর্তন ও প্রাক্কলন সংশোধন সংক্রান্ত কাজে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, দুটি কসাইখানার নির্মাণে সাইন বুঝে নিতে সময় লেগেছে, শহীদনগর মেটারনিটি হাসপাতালের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যয় বেড়েছে, ছয়টি ফুটপাত ব্রিজের ড্রয়িং ডিজাইন প্রণয়নে বিলম্ব, ধূপখোলা শিশু পার্কের ডিজাইন পরিবর্তন, গণকটুলীতে ছয়টি ক্লিনার কলোনি ভবন নির্মাণকাজে বিলম্ব এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণকাজের সাইট বুঝে পেতে বিলম্ব হয়েছে। একই সঙ্গে রাজারবাগ পুলিশ লাইন, পোস্তগোলা আর্মি ক্যাম্প ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এলইডি লাইট স্থাপনে দেরি হয়েছে। এছাড়া নগর ভবন সংস্থার ও ধানমণ্ডি লেকের উন্নয়নে কাজে দেরি হওয়ায় দ্বিতীয় সংশোধনী করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় আগে অনুমোদিত অঙ্গসমূহ যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে নকশা পরিবর্তন হয়েছে। ডিএসসিসি বলেছে প্রকল্পের উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জন করতে চাইলে আরও ব্যয় বাড়াতে হবে। ফলে প্রকল্পের নতুন সংশোধনী অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে। আজ একনেক বৈঠকে দ্বিতীয় এ সংশোধনী উপস্থাপন করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত