বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছেন দেশে ভিন্নমত প্রকাশে মৃত্যুও হতে পারে এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন মিলনায়তনে ২০ দলীয় জোট আয়োজিত ‘বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদের’ স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সভায় মওদুদ আহমদ বলেন, ফাহাদ জীবন দিয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে, ভিন্নমত প্রকাশ করা হলে এই সরকারের আমলে মৃত্যুও হতে পারে। ফাহাদ জান্নাতবাসী হবেন। শুধু বুয়েট নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেই ছাত্রলীগের টর্চার সেল রয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের শাখা-প্রশাখায় দুর্নীতি বিস্তার করছে। যেহেতু এ সরকার জনগণের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত নয়, তাই জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতাও নেই। ফলে এমন লাগামহীন দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং টেন্ডারবাজি হচ্ছে। এসব অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, এ সরকার যত তাড়াতাড়ি বিদায় নেবে ততই দেশের জনগণের মঙ্গল। বিএনপির দাবি অবিলম্বে সরকার পদত্যাগ করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিক। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠন করা উচিত। যেখানে সবার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির বিষয়ে নানা কথাবার্তা আছে। কেউ বলছেন জামিনের কথা। কেউ বলছেন প্যারোলের কথা। তবে বিএনপির বক্তব্য হলো, বিএনপি প্যারোলে নয়, রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে।
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা আমাদের আত্মহত্যার শামিল। আজ দেশে কোনো ছাত্ররাজনীতি নেই বলেই ছাত্ররাজনীতি বন্ধের কথা আসছে। আজ যদি ছাত্ররাজনীতি থাকত, তবে তা বন্ধের কথা উঠত না। ছাত্ররাজনীতি নয়, ছাত্রলীগের রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতির নামে যে অপরাজনীতি হচ্ছে, সেটা বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, দলের মধ্যে একটা দালাল শ্রেণি আছে, এটা মিথ্যা না। তারা খালেদা জিয়াকে প্যারোলে মুক্ত করতে চাইছেন। কিন্তু খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি হবেন কেন? প্রধানমন্ত্রী প্যারোলে দেশ থেকে কীভাবে বের হবেন মানুষ সেই চিন্তা করছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের সভাপতি মওলানা আবদুর রকিব, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, ন্যাপ ভাসানীর সভাপতি অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইহসানুল হুদা, ডেমোক্রেটিক লীগের মহাসচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, এনডিপির সভাপতি কারি মো. আবু তাহের, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপ সভাপতি এমএম শাওন সাদেকী প্রমুখ।
