গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা পরিচয়ধারী জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের একক নামে থাকা ১৪ প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে আছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এক সভা করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে প্রাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ (পিপিআর) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ (পিপিএ) অনুযায়ী নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দেওয়া শুরু করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। বিষয়টি বুঝতে পেরে ‘কৌশলী’ অবস্থান
নিয়েছে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড। যেখানে এক থেকে দেড়শ শ্রমিক দৈনিক কাজ করে সেখান দুই থেকে তিনজন করে শ্রমিক হাজির করা হচ্ছে। যাতে কাজ বন্ধ থাকার অভিযোগে চুক্তি বাতিল করতে না পারে কর্র্তৃপক্ষ।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোট ৫৬টি প্রকল্প রয়েছে জি কে শামীমের হাতে। এর মধ্যে ১৪টি প্রকল্প তার একক প্রতিষ্ঠানের নামে আর বাকি ৪২টি প্রকল্প রয়েছে জয়েন্ট ভেঞ্চার (জেভি)। চলমান এ ৫৬ প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিকেবির নামে কাজগুলো বন্ধ হয়ে আছে। এ অবস্থায় আমরা নিয়ম অনুযায়ী নোটিস দেওয়া শুরু করেছি। এরপর তারা কাজে শ্রমিক পাঠানো শুরু করেছে। কাজের ব্যাপ্তি অনুযায়ী খুব অল্পসংখ্যক শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে। তাদের তৎপরতা দেখে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ কিছুটা জটিল মনে হচ্ছে।’
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, জি কে শামীমের কাজগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে গত ৯ অক্টোবর একটি সভা হয়েছে। সভায় শামীমের প্রতিষ্ঠানকে প্রাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ (পিপিআর) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ (পিপিএ) অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী ঠিদাকার প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের কাজ ২৮ দিন বন্ধ রাখলে তাকে নোটিস দেওয়া হবে। এভাবে কিছুটা সময় দিয়ে পরপর তিন দফা নোটিস দিতে হবে। নোটিসের জবাব পাওনা না গেলে বা জবাব সন্তোষজনক না হলে দরপত্র বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করবে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী। এরপর বাতিলের এ প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদন দেবে সংস্থাপ্রধান অর্থাৎ প্রধান প্রকৌশলী। কাজ বন্ধ থাকার অভিযোগে যেন চুক্তি বাতিল না করা যায় সেজন্য এখন নামমাত্র শ্রমিক কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।
গণপূর্ত (ইডেন) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তফা কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের নামে সচিবালয়ে ৩২৭ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর এ কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। আমরা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে নিয়ম অনুযায়ী নোটিস দেওয়া শুরু করি। গতকাল থেকে তারা (ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান) শ্রমিক পাঠানো শুরু করেছে। কিন্তু যেখানে স্বাভাবিকভাকে ১২০-১৩০ জন শ্রমিক কাজ করে সেখানে মাত্র ৩-৪ জন পাঠানো হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে আইনি জটিলতা এড়াতে তারা কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।’
শেরেবাংলা নগরের (গণপূর্ত বিভাগ-৩) নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন চাকমা দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় রাজস্ব ভবন নির্মাণে কাজ চলমান ছিল। ঠিকাদার শামীম গ্রেপ্তারের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এখন গতকাল থেকে অল্প কিছু শ্রমিক কাজ শুরু করেছে। এখন আমরা বিষয়টি কিছু সময় পর্যবেক্ষণ করব। কাজের গতি দেখেই বোঝা যাবে এটা কালক্ষেপণ কি না।
র্যাব সদর দপ্তর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মাত্র ৭ ভাগ কাজ হয়েছে। ৪৩৭ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে হাতে নেওয়া এ প্রকল্পের কাজ এখন বন্ধ আছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জি কে শামীম গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অফিসের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে কীভাবে প্রকল্পে শ্রমিক পাঠানো হচ্ছে তা নিয়েও রহস্য দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের প্রধান প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফার মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি।
