সম্রাট-আরমান মুুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ

অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন সম্রাট

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৫ এএম

গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যাচ্ছেন ঢাকা মহানগর যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। ক্যাসিনো, অবৈধ মার্কেট, দোকান, ফুটপাত, মাদক ব্যবসার কমিশনসহ বিভিন্ন খাত থেকে তার উপার্জিত টাকা কোথায় রাখা হয়েছে; দল ও দলের বাইরে আড়ালে থেকে এসব অপকর্মে কারা তাকে সহযোগিতা করতেন এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাকে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তার

সহযোগী এনামুল হক আরমানকেও। ডিবির উচ্চ পদস্থ কয়েক কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি টিম তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শিগগির তাদের জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে মুুখোমুখি (জেআইসি) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন তদন্তকারী দুই কর্মকর্তা। 

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ১০ দিনের রিমান্ডে থাকা সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকটি বিষয় ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে কাকরাইলে ভূঁইয়া ম্যানশন দখল, কারা কেন সেখানে যাওয়া-আসা করতেন, ক্যাসিনো ও টেন্ডার সিন্ডিকেটে কারা, বিদেশে অর্থপাচার এবং অস্ত্র ও মাদক। গতকাল বুধবার সকালে সম্রাট অসুস্থ বোধ করেন জানালে তাকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্ন করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। বিশেষ করে তার উপাজির্ত অর্থ, অর্থের উৎস এবং তার সঙ্গে পর্দার আড়ালে থেকে যারা ভাগ নিতেন, সহযোগিতা করতেন তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে সম্রাট একেকবার একেক তথ্য দিচ্ছেন। প্রায়ই অনেক প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে যাচ্ছেন। রহস্যময়ভাবে নীরবতা পালন করছেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে উপাজির্ত অর্থ দলের প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন বলে জানান সম্রাট। ক্যাসিনো কারবারে জড়িত থাকা ও ক্যাসিনো খেলার শখের বিষয় বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সুবিধাভোগী একাধিক সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার সম্পর্কে সম্রাট তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান ও অস্ত্র প্রসঙ্গে অনেক প্রশ্নের উত্তর তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন।

গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল পর্যন্ত কয়েক দফা আলাদাভাবে সম্রাট ও আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডের প্রথম দিন তেমন কোনো তথ্য উদঘাটন না হলেও আশা করা যাচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া যাবে তার কাছ থেকে। আরমানকে দিয়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে বিনিয়োগ করেছিলেন সম্রাট। ‘বড় ভাইদের’ সৌজনে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় পার্টি আয়োজন করা হতো। এসব পার্টিতে নায়িকা মডেলদের আমন্ত্রণ করতেন আরমান। আরমান নিজেও সিনেমা তৈরি ও পরিচালনায় যুক্ত হন সম্রাটের পরামর্শেই। কালো টাকা সাদা করার জন্য এই ব্যবসাকে সুবিধাজনক মনে হতো সম্রাটের। ক্যাসিনো কারবারসহ সম্রাটের সব অপকর্মে মানিকজোড়ের মতো ছিলেন আরমান।

সম্রাটের আরেক সহযোগী কাউন্সিলর মমিনুল হক সাঈদ। সম্রাটের কাছ থেকে সাঈদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, বিশেষভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে সম্রাট ও আরমানকে। এজন্য সিনিয়র অফিসারদের সমন্বয়ে স্পেশাল টিম গঠন করা হয়েছে। সম্রাটের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেতেই ডিবি পুলিশ এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান ওই কর্মকর্তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত