ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় গতকাল বুধবার ভোররাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোররাতে খুলনা, লক্ষ্মীপুর ও হবিগঞ্জে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত
হন ছয়জন। গতকাল নিহত ইকবাল হোসেন (৪২) সোনাগাজীর পূর্ব ছাড়াইতকান্দি গ্রামের আবদুর রব ও গুণধনী দম্পতির ছেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, আন্তঃজেলা ডাকাতদলের সর্দার ইকবালের বিরুদ্ধে ফেনীর পাঁচটি থানা ও চট্টগ্রামের মিরসরাই থানায় বিভিন্ন অভিযোগে ৩৭টি মামলা রয়েছে। রাত ৩টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের আজম খান মার্কেটের সামনে একদল ডাকাতের সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফেনীর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি রঞ্জিত বডুয়া ও সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, গোপন খবরে ডিবি ও থানার একটি দল ওই গ্রামে যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল গুলি চালালে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এতে ইকবাল গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। ইকবালকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইকবাল ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেন জসিমের সৎ ভাই। ৬ মাস আগে ৪১ মাস সাজা খেটে কারামুক্ত হয়েছিলেন তিনি। তার নিহত হওয়ার খবরে স্বস্তি ফিরে এসেছে এলাকায়। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইকবাল কারামুক্ত হওয়ার পর ডাকাতদলের সদস্যদের সংগঠিত করে ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় ডাকাতি করে আসছিলেন। গত ২৫ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. সিএস করিমের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের বাড়িতে ডাকাতিতে তার নাম আসে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজন তার নেতৃত্বে ডাকাতির কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন। ইকবাল জেলখানায় বসেও তার সহযোগীদের দিয়ে ডাকাতি করাতেন। একাধিক ঘটনায় তার বাড়ি থেকে ডাকাতির মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।
