কয়লা চুরির ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সাবেক এক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ মামলায় গতকাল বুধবার জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করতে এলে এ তিন আসামির জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় আদালত। এছাড়া একই মামলায়
আদালত অন্য ২০ আসামির জামিন মঞ্জুর করে। এদিন দুপুরে জেলা জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আজিজ ভূঁইয়া এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেনÑ বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক এমডি প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহমেদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (স্টার ডিপার্টমেন্ট) এ কে এম খালেদুল ইসলাম।
গত মঙ্গলবার একই আদালতের বিচারক এই মামলার শুনানি শেষে অভিযোগপত্রের তালিকাভুক্ত খনিটির সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ কর্মকর্তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন। যে পাঁচজন অব্যাহতি পেয়েছেন তারা হলেনÑ ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক জাহিদুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক একরামুল হক, সাবেক ব্যবস্থাপক আবদুল মান্নান পাটোয়ারী ও মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র সাহা।
এ মামলায় গত ২৩ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. সামসুল আলমের পক্ষে দুদক দিনাজপুর সমন্বিত কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত (বিভিন্ন মেয়াদে) ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭২৭ দশমিক ৯৯ টন কয়লা আত্মসাৎ করেন, যার বাজারদর ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা। আসামিরা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
অভিযোগপত্রের তালিকায় রয়েছেন খনির সাবেক সাত এমডিসহ ২৩ আসামি। তারা হলেন সাবেক এমডি মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আবদুল আজিজ খান, প্রকৌশলী খুরশিদ আলম, প্রকৌশলী কামরুজ্জামান, মো. আনিসুজ্জামান, প্রকৌশলী এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও প্রকৌশলী হাবিব উদ্দীন আহমেদ। এছাড়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক (জিএম) শরিফুল আলম, আবুল কাশেম প্রধানিয়া, আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক মাসুদুর রহমান হাওলাদার, আরিফুর রহমান ও সৈয়দ ইমাম হাসান, উপব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান, মোর্শেদুজ্জামান, হাবিবুর রহমান, জাহিদুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক সতেন্দ্রনাথ বর্মণ, মনিরুজ্জামান, কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপক সোহেবুর রহমান, উপমহাব্যবস্থাপক এ কে এম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক অশোক কুমার হাওলাদার ও উপমহাব্যবস্থাপক জোবায়ের আলী।
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির পক্ষে ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে পার্বতীপুর মডেল থানায় মামলা করেন।
