সবাই ভাবেন গ্ল্যামার দুনিয়ার পথ বোধহয় গোলাপের পাপড়ি বিছানো। একেবারেই তা নয়। বরং অনেক কাঁটার আঘাত সহ্য করে পৌঁছতে হয় শিখরে। দাদা কিংবদন্তি অভিনেতা রাজ কাপুরের এ কথা বরাবরই মেনে এসেছেন কারিশমা কাপুর।
বলিউডে কাপুর খানদানের অবদান কম নয়।
কারিশমা এই পরিবার থেকে আসা প্রথম নায়িকা। অভিনয়ের নেশায় কিছুদিন পড়ার পর কলেজ ছাড়েন কারিশমা।
১৯৯১ সালে ‘প্রেম কয়েদি’র মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। সিনেমাটি মাঝারি মানের ব্যবসা করে। এরপর নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে
গেছে ক্যারিয়ার। তা সত্তে¡ও নিষ্পাপ চাহনির কারিশমাকে ধরা হয় তার প্রজন্মের অন্যতম মেধাবী অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমকে কারিশমা বলেন ‘আমি সেট, ক্যামেরা ও লাইট খুবই পছন্দ করতাম! পারিবারিক ধারা বজায় রেখে অভিনেতা হতে চেয়েছিলাম। যখন আমি দাদাকে এই কথা বললাম, তার জবাব ছিল ‘এই পথ খুবই গ্ল্যামারস কিন্তু ফুলের পাপড়ি বিছানো নয়, তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।’ এ কথা আমি সব সময় মেনেছি।’
আরও জানান, সিনে ক্যারিয়ারে বরাবরই
সাহায্য করেছেন তার মা অভিনেত্রী ববিতা কাপুর। নিজের সংকল্প নিয়ে সংশয়ে ছিলেন কারিশমা। কিন্তু নামি পরিবারের সন্তান হওয়া সত্তে¡ও ববিতা তাদের সব সময় সাধারণ জীবনযাপন করতে শিখিয়েছেন। এটাই ছিল কারিশমার অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, ‘আমার বোন কারিনা ও আমি বাসে করে স্কুলে যেতাম, লোকাল ট্রেন ধরে কলেজ করতাম। নিজের শেকড়ের সঙ্গে লেগে থাকতে, আত্মবিশ্বাসী হতে শিখিয়েছেন মা। অভিনয়ের প্রতি আমার অনুরাগ ও সংশয়ের কথা তিনি জানতেন। বলতেন, মাটিতে পা রেখে চলো। তাহলে ব্যর্থতা কোনোদিন ছুঁতে পারবে না। দক্ষিণী সিনেমার রিমেক দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করার সময়ও মা বলেছেন, তুমি তোমার ১০০ শতাংশ দাও। সাফল্য নিজে থেকেই তোমার কাছে আসবে।’
‘খুদ্দার’ ছবির ‘সেক্সি সেক্সি’ শিরোনামের গানটি কারিশমাকে যেমন সাফল্যের স্বাদ দিয়েছে, তেমনি সমালোচনাও কম হয়নি। ‘সেক্সি’ তকমা পেয়ে খুবই মন খারাপ হয়েছিল। মা তাকে বুঝিয়েছিলেন, অভিনেতার কাজ দর্শককে বিনোদন দেওয়া। এই নিয়ে কে কী বলল তা নিয়ে মাথা ঘামালে চলবে না!
কারিশমার ক্যারিয়ারের দুর্দান্ত একটি সিদ্ধান্ত ছিল ইয়াশ চোপড়ার ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমায় অভিনয়। কারণ মূল চরিত্রে মাধুরী দীক্ষিত থাকায় প্রথম সারির কোনো নায়িকা পার্শ্ব চরিত্রটি করতে রাজি হচ্ছিলেন না। তখন সাহস করে এগিয়ে আসেন কারিশমা, পেয়ে যান জাতীয় পুরস্কারও।
আমির খানের বিপরীতে ‘রাজা হিন্দুস্তানি’ কারিশমার অন্যতম হিট সিনেমা। ডেভিড ধাওয়ানের বেশিরভাগ হিট সিনেমার নায়িকাও তিনি।
এছাড়া তার ঝুলিতে আছে বলিউডের অন্যতম নারীকেন্দ্রিক সিনেমা ‘শক্তি’।
পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে অনেক দিন চলচ্চিত্রে নেই কারিশমা। তবে শিগগিরই স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ফিরছেন ওয়েব ফিল্ম ‘মেন্টালহুড’ নিয়ে।
