এটা এখন ডেড রাবারের লড়াই। তারপরও দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলে একটা সান্ত¡না পুরস্কার পাবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পাবে ফাফ ডু প্লেসিসের দল। সঙ্গে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা থেকেও পরিত্রাণ পাবে সফরকারীরা। আজ রাঁচিতে শুরু হচ্ছে সিরিজের শেষ টেস্ট। প্রথম দুই টেস্ট জিতে তিন ম্যাচের সিরিজ আগেই জিতে নিয়েছে বিরাট কোহলির ভারত।
রাঁচি টেস্ট শুরু হওয়ার আগে রীতিমতো অসহায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইনজুরির কারণে খেলতে পারছেন না এইডেন মার্করাম। ফলে সফরকারীদের ব্যাটিং সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। কেশব মহারাজও ইনজুরির কারণে রাঁচি টেস্টের দলে নেই। পুনে টেস্টে তিনি শেষের দিকে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছিলেন। তবে এই দুজনের অনুপস্থিতি ছাড়াও প্রোটিয়াদের বড় মাথাব্যথার কারণ একযোগে সবার ফর্ম হারানো। বোলাররা ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ওপর কোনো প্রভাবই ফেলতে পারছেন না। ব্যাটসম্যানরাও অসহায় আত্মসমর্পণ করছেন। প্রথম টেস্টে ডিন এলগার ও কুইন্টন ডি কক সেঞ্চুরি করেছিলেন। এরপর টপ অর্ডারের আর কেউ বলার মতো কিছু করতে পারেননি। পক্ষান্তরে ভারত খেলছে রাজার মতো। অনেক দিন পর টেস্টে সুযোগ পেয়ে রোহিত শর্মা বিশাখাপত্তমে জোড়া সেঞ্চুরি করেছিলেন। পুনে টেস্টে রান পাননি। কিন্তু তাতে সামান্যতম অসুবিধাতেও পড়তে হয়নি ভারতকে। অধিনায়ক বিরাট কোহলি অপরাজিত ২৫৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। সেঞ্চুরি করেছিলেন প্রথম টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা মায়াঙ্ক আগরওয়াল। এছাড়া আজিঙ্কা রাহানের হাফসেঞ্চুরি, চেতেশ্বর পুজারা ও রবীন্দ্র জাদেজার ব্যাটিং ধরলে রাঁচি টেস্টের আগে ব্যাটিং নিয়ে নিশ্চিত থাকতে পারে ভারত। অবশ্য তাদের বোলিং নিয়েও দুশ্চিন্তার কিছু নেই। প্রথম টেস্টে রবিচন্দ্রন অশ্বিন আর মোহাম্মদ শামি প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় টেস্টে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন উমেশ যাদব। আর রবীন্দ্র জাদেজার কথা বলাবাহুল্য। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে পুনে টেস্ট পর্যন্ত অলরাউন্ড ক্যারিশমা দেখিয়ে চলছেন তিনি। রাঁচি টেস্টে ব্যতিক্রম হবে বলে মনে হয় না। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হওয়ার পর টানা চার টেস্ট জিতে ২০০ পয়েন্ট নিয়ে সবার ওপরে আছে ভারত। পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে ১৪০ পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। রাঁচি টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারলে আরও ৪০ পয়েন্ট পাবে ভারত।
