চট্টগ্রাম মাতাতে এসেছেন লি টাক

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৩ এএম

গত এক দশকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে আলো ছড়ানো বিদেশি ফুটবলারের তালিকা করা হলে সেরা পাঁচে থাকবে তার নাম। এদেশে খেলেছেন মাত্র এক মৌসুম। কিন্তু দারুণ ফুটবলশৈলী নিয়ে দাগ কেটে গেছেন ফুটবলপ্রেমীদের মনে। তিনি লি টাক। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন আবাহনীর জার্সিতে দেখা গিয়েছিল এই প্লে-মেকারকে। সেটি ছিল আবাহনীর পঞ্চম লিগ শিরোপা। আর সেই শিরোপা এনে দিতে সবচেয়ে বড় ভ‚মিকা ছিল এই ব্রিটিশ ফুটবলারের। তিন বছর পর আবারও এদেশের ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে স্থান পেতে এসেছেন লি টাক। তবে এবারের আশা বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের হয়ে নয়। আজ থেকে চট্টগ্রামে শুরু হতে যাওয়া শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন মালয়েশিয়ার শীর্ষ লিগের ক্লাব তেরেঙ্গানু এফসিকে। সৃষ্টিশীল ফুটবলে যেমন গড়ে তুলেছিলেন আলাদা ভক্তকুল, ঠিক তেমনই বাংলাদেশের একটি মৌসুম লি টাককে আরও ওপরের পর্যায়ে খেলতে রেখেছে বড় ভ‚মিকা। তাই তো প্রিয় দেশটিতে ফের খেলতে এসে খুব উদ্বেলিত ৩১ বছর বয়সী এই ইংরেজ। তিন বছরে নিজের অভিজ্ঞতার ভাÐার আরও সমৃদ্ধ করেছেন মালয়েশিয়ায় খেলে। সেই অভিজ্ঞতা পুঁজি করেই চট্টগ্রাম মাতানোর কথা বললেন লি টাক।

‘তিন বছর পর এদেশে ফের খেলতে যাচ্ছি। সত্যি এটা আমার কাছে একটা চমকপ্রদ অনুভ‚তি। এদেশে আমি দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়ে গেছি। ২০১৬ সালে আবাহনীকে অপরাজিত লিগ চ্যাম্পিয়ন করতে সহায়তা দিয়েছিলাম। সুবাদে এদেশের ফুটবল সম্পর্কে আমার ধারণা আছে বেশ। আমি খুবই রোমাঞ্চিত আবারও এদেশে খেলার সুযোগ পেয়ে। তিন বছরে অনেক কিছুই পাল্টেছে। আমি সন্তান লাভ করেছি (হাসি)। মালয়েশিয়ায় তিন বছরে খুব ভালো অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। বয়সও খানিকটা বেড়েছে। তারপরও আমি আমার ফুটবলশৈলী দেখাতেই এখানে এসেছি। আশা করছি আমার ফুটবল সবার ভালো লাগবে।’ আবাহনীর আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা ছিলেন লি টাক। লিগে খেলা ১৭টি ম্যাচে গোল করেছিলেন ১০টি। তবে করিয়েছিলেন অনেকগুলো। তাই তো মৌসুম শেষে তাকে ধরে রাখতে আবাহনী ছিল মরিয়া। কিন্তু মালয়েশিয়ার দল নেগেরি সাম্বিলানে খেলার প্রস্তাব আসায় তিনি ছেড়ে যান আবাহনী। তবে সুযোগ পেলে আবারও বাংলাদেশে খেলার আগ্রহের কথা বলেছেন লি টাক, ‘এদেশের ফুটবল অনেকটাই এগিয়েছে তিন বছরে। তাই এখানে আবারও খেলাটা অসম্ভব নয়। আমি এখন আমার মালয়েশিয়ার দলকে নিয়ে ভালো আছি। এই দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। তবে যতটুকু জানি এখন বাংলাদেশের ক্লাবগুলো খুব সিরিয়াস। তারা ভালোমানের বিদেশি এনে খেলার মানের উন্নতি ঘটিয়েছে। ক্লাবগুলোর অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধাও বেড়েছে। বসুন্ধরা কিংসের মতো দল যুক্ত হয়েছে এদেশের ফুটবলকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে। তাই এখানে খেলার আগ্রহ আগের চেয়ে আমার বেড়েছে। কখনো হয়তো এখানে ফিরব।’

শেখ কামাল ক্লাব কাপের ভেন্যু এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে খেলার অভিজ্ঞতা আছে লি টাকের। এবার এসে তাই ছুটে গিয়েছিলেন পরিচিত মাঠটি দেখতে। যা দেখে বেশ মনে ধরেছে তার। এখানে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা হবে অনন্য জানিয়ে লি টাক বলেন, ‘এই মাঠে আমি আগেও খেলেছি। তবে এখন মাঠের অবস্থা খুব ভালো। আমি এখানে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত