মুহুর্মুহু গুলি, বিকট বিস্ফোরণ, মোড়ে মোড়ে জ্বলন্ত গাড়ি, আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী, পথে পথে পুলিশ-সেনার টহল, গলির মুখ থেকে উঁকি দেওয়া বন্দুকধারী, উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কে ঘরে স্বেচ্ছাবন্দি নগরবাসী। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার ছিল মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলের শহর কুলিয়াকানর বাসিন্দাদের জন্য অন্য রকম এক অভিজ্ঞতার দিন। মেক্সিকোর আলোচিত কারাবন্দি মাদকসম্রাট হোয়াকিম গুজমান বা এল চ্যাপোর এক ছেলেক
আটক করার সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার কুলিয়াকান হয়ে ওঠে রণক্ষেত্র। প্রচণ্ড গোলাগুলির মুখে ওভিদিও গুজমান লোপেজ নামের এল চ্যাপোর ওই ছেলেকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
মেক্সিকোর কুলিয়াকান শহরটি মাদকচক্রের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ শহর থেকেই পাশের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মাদক পাচার করা হয়ে থাকে। ৬২ বছর বয়সী এল চ্যাপো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে আছেন। তার অবর্তমানে মাদক চোরাচালানের কাজটি করে যাচ্ছেন এক ছেলে ওভিদিও গুজমান। যুক্তরাষ্ট্রে ওভিদিওর বিরুদ্ধেও মাদক পাচারের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সেখানেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলফনসো দুরাজোর বরাতে রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, পুলিশের একটি টহল দল বৃহস্পতিবার নিয়মিত তল্লাশির অংশ হিসেবে একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওভিদিও গুজমানসহ চারজনকে আটক করে। ওভিদিওকে আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সিনালোয়া গ্যাংয়ের সদস্যরা পুলিশের টহল দলটিকে ঘিরে ফেলে গুলি বর্ষণ শুরু করে। তাদের তাণ্ডবে পুরো নগরী রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। তারা নগরজুড়ে বেশ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একটি পেট্রলপাম্প জ্বালিয়ে দেয়। সহিংসতার সুযোগ নিয়ে সিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যায় বন্দিদের একটি দল। পুরো শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি টালমাটাল হয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশ বাধ্য হয়েই ওভিদিওকে ছেড়ে দেয়।
দেশটির আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস টিমের সিনিয়র বিশ্লেষক ফালকো আর্নস্ট জানান, ওভিদিও গুজমানের মুক্তি আন্দোলন একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। এ ঘটনায় আরেকটি বার্তা দিয়েছে যে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নেই। যেকোনো মুহূর্তে সেনাবাহিনীসহ রাষ্ট্র নিজেই বø্যাকমেল হতে পারে।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী আলফনসো দুরাজোর দাবি, নগরীতে আরও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়া রোধ করে শান্তি ফেরাতে এবং বিশেষ করে আমাদের পুলিশ সদস্যদের জীবন রক্ষা করতেই ওভিদিও গুজমানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হতাহতের খবর নিশ্চিত না করলেও খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ২ জন নিহত ও ১৯ জনের মতো আহত হয়েছে। তবে রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে অনেক দেহ।
বারবার কারাগার থেকে পালানো এল চ্যাপোকে সর্বশেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে গ্রেপ্তারের পর যুক্তরাষ্ট্রের হাতে দেয় মেক্সিকো। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত চ্যাপোকে আরও ৩০ বছর কারাগারে থাকতে হবে। ১৯৯৩ সালে এল চ্যাপোকে মাদক ব্যবসার অভিযোগে প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় একটি ময়লা কাপড়ের ঝুড়িতে লুকিয়ে থেকে জেল থেকে পালিয়ে যান তিনি। ১৩ বছর পালিয়ে থাকার পর ২০১৪ সালে আবারও গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। গত বছরের জুলাই মাসে আবারও পালিয়ে যাওয়ায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে দেশটির সরকার।
