না ফেরার দেশে চলে গেলেন দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী কালিদাস কর্মকার। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ইস্কাটনের বাসার বাথরুমে অচেতন অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কালিদাস কর্মকারের বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। গ্যালারি কসমসের নির্বাহী শিল্প ব্যবস্থাপক, চিত্রশিল্পী সৌরভ চৌধুরী বলেন, ‘কালিদাস কর্মকার দুপুর ১টার দিকে বাথরুমে গোসল করতে গিয়ে পড়ে যান। সেখানে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা
হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর আনুমানিক আড়াইটার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
নব্বইয়ের দশকে নানা ধরনের নিরীক্ষাধর্মী কাজ এবং পারফরমিং আর্ট ও স্থাপনা শিল্পের জন্য আলোচিত হন এ চিত্রশিল্পী। দেশে-বিদেশে আয়োজিত শিল্পী কালিদাসের একক চিত্র প্রদর্শনীর সংখ্যা এ দেশের চারুশিল্পীদের মধ্যে সর্বাধিক। জীবদ্দশায় ৭১টি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া তিনি বহু আন্তর্জাতিক দলবদ্ধ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক সম্মান লাভ করেছেন। নন্দিত এই চিত্রশিল্পীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে সংস্কৃতি অঙ্গনে। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে শোক প্রকাশ করে স্ট্যাটাস লিখেছেন।
চিত্রশিল্পী সৌরভ চৌধুরী জানান, কালিদাস কর্মকারের দুই মেয়ে কেয়া কর্মকার ও কঙ্কা কর্মকার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। তারা দেশের উদ্দেশে রওনা করেছেন। তারা দেশে এসে শেষকৃত্যের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। তার আগ পর্যন্ত মরদেহ বারডেমের হিমাগারে থাকবে।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কালিদাস কর্মকারের মরদেহ রবিবার সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে নেওয়া হবে। পরে তার মরদেহ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশে ছাপচিত্র শিল্পের প্রচার ও প্রসার আন্দোলনে গ্রাফিকস আঁতেলিয়ার-৭১-এর মাধ্যমে কালিদাস কর্মকারের ভূমিকা স্মরণীয়। ভারত, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, জাপান, কোরিয়া, আমেরিকাতে আধুনিক শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমে উচ্চতর ফেলোশিপ নিয়ে সমকালীন চারুকলার নানা মাধ্যমে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয় এ শিল্পীর ৭১তম একক প্রদর্শনী। অ্যাথেনা গ্যালারির আয়োজনে ‘পাললিক অনুভব’ শিরোনামের ওই প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীটি সাজানো হয়েছিল বিভিন্ন মাধ্যমে করা ৭১টি শিল্পকর্ম দিয়ে।
কালিদাস কর্মকার ১৯৪৬ সালের ১০ জানুয়ারি ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। কালিদাসের বাবা হীরালাল কর্মকার ও মা রাধারানী কর্মকার। শৈশবেই তিনি ছবি আঁকতে শুরু করেন। স্কুলজীবন শেষে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব আর্টস থেকে ১৯৬৩-৬৪ সালে চিত্রকলায় আনুষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট কলেজ অব ফাইন আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফট থেকে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান নিয়ে চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। জীবদ্দশায় তিনি একুশে পদক ছাড়াও শিল্পকলা পদক, সুলতান স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভষিত হয়েছেন।
