‘যুবলীগ করি, আমাকে আইন শেখানোর দরকার নেই’

আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৪ এএম

আশুলিয়ায় এক পোশাককর্মীকে বেধড়ক পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছেন স্থানীয় ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা রাজন ভ‚ঁইয়া ও তার সহযোগীরা। গত মঙ্গলবার রাতের ওই ঘটনায় আহত পোশাককর্মী মো. রবিন (৩৩) 

গতকাল শুক্রবার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

রবিনের দাবি, ঘটনার সময় মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন রাজন ও তার সহযোগীরা। তবে যুবলীগ নেতা রাজন বলছেন, ঘটনার সময় তিনি সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিলেন এবং গাঁজা সেবন করায় রবিনকে পিটিয়ে এলাকার ছেলে হিসেবে ‘নিজের দায়িত্ব’ পালন করেছেন।

আহত রবিন দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করে জানান, তিনি আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। দুই মাস আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে চাকরি ছেড়ে দেন তিনি। পরে গত কয়েক দিন ধরে নতুন চাকরির খোঁজ করছিলেন। চাকরির জন্য গত মঙ্গলবার রাতে হা-মীম গ্রæপের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে নরসিংহপুর এলাকায় তার এক বন্ধুর বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে যুবলীগ নেতা রাজন ভ‚ঁইয়া এবং তার সহযোগী রাসেল কমান্ডার ও মাসুদ ওরফে পালসার মাসুদসহ বেশ কয়েকজন মাতলামি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই রাজন ও তার সহযোগীরা তাকে (রবিন) ডেকে নিয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। তখন প্রতিবাদ করলে পিটিয়ে তার বাম পা ভেঙে দেন হামলাকারীরা। মারধর শেষে তাকে টাঙ্গাইলগামী একটি বাসে উঠিয়ে দিয়ে জামগড়া এলাকা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন রাজন ও তার সহযোগীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজন ভ‚ঁইয়া এলাকায় অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন। কিছুদিন আগে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দেওয়া নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যের লোকজনের সঙ্গে রাজন সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। এ ছাড়া প্রায় রাতেই তিনি মদপান করে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে মাতলামি করেন।

রাজন ভ‚ঁইয়া এর আগে ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য ছিলেন। বর্তমানে সেখানে এক সদস্যের আহŸায়ক কমিটি রয়েছে। আসছে কাউন্সিলে সাংগঠনিক সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে পোস্টার ছাপিয়ে এলাকার দেয়ালে দেয়ালে লাগিয়েছেন রাজন।

পোশাককর্মী রবিনকে মারধরের বিষয়ে জানতে রাজন ভুইয়ঁইয়া মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এলাকার ছেলে। যাকে পিটিয়েছি সে গাঁজাসেবী।’

তবে এলাকার ছেলে হিসেবে গাঁজাসেবীকে পুলিশে না দিয়ে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি যুবলীগ করি, আমাকে আইন শেখানোর দরকার নেই।’ এরপর বেশি কিছু না বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন রাজন।

পোশাককর্মীর ওপর হামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত