রেস্তোরাঁ মালিক ও ভোক্তা অধিদপ্তর বৈঠক

মোবাইল কোর্টে বন্ধ ৩০ শতাংশ রেস্তোরাঁ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫১ এএম

একই অপরাধে বিভিন্ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন রকম জরিমানা গুনতে হয় রেস্তোরাঁ মালিকদের। কিছুটা তাদের মনগড়া সিদ্ধান্ত, কিছুটা রেস্তোরাঁর সাইজ ও পরিধি বিবেচনা করে জরিমানা করা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের আলাদাভাবে করা মোবাইল কোর্ট ও মনিটরিংয়ের চাপে ৩০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। ৫০ শতাংশ রেস্তোরাঁ বন্ধের হুমকির মুখে। অভিযোগ এবং আইন প্রয়োগের সঠিক ন্যায্য ব্যবস্থা না থাকার কারণে রেস্তোরাঁ ব্যবসার সম্ভাবনা ভেস্তে যাচ্ছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে একটি মাত্র অধিদপ্তরের আওতায় মনিটরিং পদ্ধতি চালু করতে হবে। এটা করা গেলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে যৌথভাবে কাজ করবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। গতকাল শনিবার গুলশানের পূর্ণিমা রেস্তোরাঁয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির (গুলশান জোনের) মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি হাসান নুর ইসলাম (রাষ্টন) বলেন, একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা হোক। এরপর সেই নীতিমালার ভিত্তিতে রেস্তোরাঁগুলোতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যেতে পারে। আমরা বিভিন্ন সংস্থার কাছে করুণা চাই না, চাই আমাদের ন্যায্য অধিকার। তিনি বলেন, হাজার সমস্যার মধ্য দিয়ে আমাদের এই ব্যবসা চালাতে হচ্ছে। মোবাইল কোর্ট অনেক সময় অতিরঞ্জিত করায় ব্যবসা ক্ষতির মুখে পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন।

প্রধান আলোচক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, রেস্তোরাঁ সঠিক পথে চললে আমাদের মনিটরিং টিম জরিমানা করবে না। না হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, যারা রেস্তোরাঁ ব্যবসা করেন তারা কেউ চোর-ডাকাত নয়। আবার অধিদপ্তর আপনাদের শত্রু নয়। ভোক্তা অধিদপ্তর প্রথমবার সংশোধনের সুযোগ দেবে। এরপর কেউ আইন অমান্য করলে অধিদপ্তর তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এম রেজাউল করিম সরকার রবিন বলেন, নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি মাঠে নেমেছে। তবে ছোট বড় সবাইকে হেলথ অ্যান্ড হাইজিনের আওতায় আনতে হবে। মোবাইল কোর্ট যেন সব দরজার কড়া নাড়ে। ছোট বড় কাউকে ছাড় দেওয়া যাবে না, আমরা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশে হেলথ অ্যান্ড হাইজিন টিম গঠন করেছি। যা প্রত্যেক রেস্তোরাঁয় যাবে।

সভায় রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সুজন উদ্দিন তালুকদার বলেন, কর্তৃপক্ষ শুধু আন্দাজে জরিমানা করে যাচ্ছে। একটি মাত্র সংস্থার মাধ্যমে রেস্তোরাঁগুলোকে মনিটরিং করার জন্য দাবি জানিয়ে তিনি বলেন,  ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে খাবার দূষিত নিশ্চিত করে জরিমানা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত