সেঞ্চুরি লিটনের অপেক্ষায় মাহমুদউল্লাহ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০২:১৬ এএম

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের তৃতীয় দিনে সেঞ্চুরি হয়েছে দুটি। আরও একটি হওয়ার অপেক্ষায়। রংপুর বিভাগের ওপেনার লিটন কুমার দাস এবং অভিজ্ঞ নাঈম ইসলাম পেয়েছেন সেঞ্চুরির দেখা। এবারের লিগে খেলতে নেমে প্রথম ইনিংসেই সেঞ্চুরি করলেন জাতীয় দলের ব্যাটসম্যান লিটন। ওদিকে ঢাকা মেট্রোর বিপর্যয় ব্যাট হাতে সামলে ৯৫ রানে অপরাজিত আছেন ম্যাচে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ ফিফটি করা জাতীয় দলের বড় ভরসা মাহমুদউল্লাহ। এখন পর্যন্ত এবারের লিগের দুই ম্যাচের তিন ইনিংসেই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেললেন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।

তবে ম্যাচের হিসেবে এগিয়ে খুলনা বিভাগ। চতুর্থ ও শেষ দিনে প্রথম স্তরের ম্যাচে রাজশাহী বিভাগকে হারাতে তাদের আর দরকার মাত্র ১০৮ রান। হাতে আছে ৯ উইকেট। সাইফ হাসানের ডাবল সেঞ্চুরির জবাব জোড়া সেঞ্চুরিতে দিয়ে প্রথম স্তরের আরেক ম্যাচে রংপুর নিজেদের গুছিয়ে নিয়েছে খুব। তিনদিনে ঢাকা বিভাগ ও রংপুরের প্রথম দুই ইনিংসই শেষ হলো না। ফলের আশা মিছে তাই।

দ্বিতীয় স্তরের দুই ম্যাচের একটিতেও ফল হওয়ার তেমন আশা দেখা যাচ্ছে না। অঘটন হলে হতে পারে। চট্টগ্রাম-বরিশাল ম্যাচে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে থাকা চট্টগ্রাম ১৯০ রানের লিড নিয়ে ৯ উইকেট হাতে নিয়ে এদিন আবার ব্যাটিংয়ে নামবে। ঢাকা মেট্রো-সিলেটের ম্যাচে সকালেই বাড়তি রং লাগতে পারে মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরি পেলে। ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে ব্যাট করছে মেট্রো। তারা ৬ উইকেট হারিয়ে ১৫২ রানে এগিয়ে।

চট্টগ্রামে সাইফের অপরাজিত ২২০ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৫৫৬ রান করে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ঢাকা। জবাবে ২ উইকেটে ৭১ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল রংপুর। ৫১ রানে অপরাজিত লিটন ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ শেষ করে এসে মাঠে নেমেছিলেন প্রথমবার। তৃতীয় উইকেটে নাঈমের সঙ্গে ১৫৪ রানের জুটি গড়েন লিটন। তার সেঞ্চুরিটা আসে ১৩৩ বলে। ১৩টি চার ততক্ষণ পর্যন্ত। ১৬ টেস্টে একটাও সেঞ্চুরি করতে না পারা লিটন ঘরোয়া ক্রিকেটে বরাবর পারফর্মার। ৬২ ফার্স্টক্লাস ম্যাচে এখন ১৪ সেঞ্চুরি তার। শেষে ১৮৯ বলে ১৪ চারে ১২২ রান করে আউট হয়েছেন লিটন। নাঈম শেষে অপরাজিত তার ২৭ তম ফার্স্টক্লাস সেঞ্চুরি করে। ২৯৬ বলে ১২টি চার ও একটি ছক্কায় ১২৪ রানে তিনি। অধিনায়ক নাসির হোসেন (১) আবার ব্যর্থ। তানবীর হায়দার ৫২ রানে অপরাজিত।

চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীকে হারানোর ভয় দেখানো খুলনার দ্বিতীয় ইনিংস দিয়ে খুলনায় খেলা শুরু হলো এদিন। প্রতিপক্ষের ২৬১ রানের জবাবে ৩০৯ রানে অল আউট হয়ে ৪৮ রানের লিড নেয়। নুরুল হাসান সোহান ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন। পার্টনারের অভাবে সেঞ্চুরি হলো না। এরপর জাতীয় দরে চার বছর পর ডাক পাওয়া পেসার আল-আমিন হোসেন নিলেন ৪ উইকেট। দেড়শ ফার্স্টক্লাস ক্রিকেট হয়েছে তার। অভিজ্ঞ রাজ্জাকেরও চার। মোস্তাফিজুর রহমান শিকার করলেন ২টি। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭০ রানে অল আউট হয়ে রাজশাহী দিতে পারল মোটে ১২৩ রানের টার্গেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৭ আর মুশফিকুর রহিম ৪৪ রান করেন। জয়ের লক্ষ্যে নেমে খুলনা ১ উইকেটে ১৫ রানে দিন শেষ করে। এনামুল হক বিজয় (৪) আউট। সৌম্য সরকার (০) ও ইমরুল কায়েস (১১) শেষদিন শুরু করবেন।

বগুড়ায় মেট্রোর তৃতীয় দিন শুরু হয়েছিল কোনো উইকেট না হারিয়ে ৯ রানে। কিন্তু ৪৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। নাঈম শেখ ১০ রানে আউট হলেন। মাহমুদউল্লাহ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিলেন। জাবিদ হোসেন (২৫) ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব (১০) সঙ্গ দিলেন। সপ্তম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ-শহিদুল ইসলামের অবিচ্ছিন্ন ৬১ রানের জুটি ভরসা ধরে রেখেছে। সিলেটের বিপক্ষে এখন ১৫২ রানের লিড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটে ২২৫ রান তুলে। ১৯৪ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৯৫ মাহমুদউল্লাহর।

ফতুল্লায় চট্টগ্রামে প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রানের জবাবে বরিশাল করল ২১৬। বরিশালের নুরুজ্জামান ৬০ রান করেছেন। মোহাম্মদ আশরাফুল ২১ ও মোসাদ্দেক হোসেন করলেন ৪। অফস্পিনার নাঈম হাসান নিয়েছেন ৪ উইকেট। ১৪০ রানের লিডের সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৫০ রান যোগ করে ১৯০ বানিয়েছে চট্টগ্রাম। পিনাক ঘোষ (৩০) ও অধিনায়ক মুমিনুল হক (৯) দিন শুরু করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত