নতুনদের পাচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

বড় চমক থাকছে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে। মেয়াদোত্তীর্ণের চার বছর পর আগামী ১৬ নভেম্বর হতে যাওয়া সম্মেলনে বাদ পড়তে পারেন অনেক প্রভাবশালী নেতা। সেই সঙ্গে শীর্ষ পদে দেখা যেতে পারে অপেক্ষাকৃত তরুণদের। আ.লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, শুধু স্বেচ্ছাসেবক নয়, এবারের প্রত্যেকটি কমিটিতেই চমক উপহার দেবেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঠাঁই হবে না বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ও সুবিধাবাদী নেতাদের। কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর যথাক্রমে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর মহানগরের সম্মেলন করবে সংগঠনটি। ১৯৯৪ সালের ১৭ জুলাই আ.লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের সাবেক নেতাদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন করেন। এর তিন বছর পর ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সাংসদ মকবুল হোসেনকে আহ্বায়ক করে প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। ২০০২ সালে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে তিন বছরের জন্য কৃষিবিদ বাহাউদ্দিন নাছিমকে সভাপতি ও পংকজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯ বছর পর ২০১২ সালের ১১ জুলাই দ্বিতীয় সম্মেলনে তিন বছরের জন্য মোল্লা আবু কাওছারকে সভাপতি ও পংকজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এই কমিটিরও চার বছর আগে মেয়াদ শেষ হয়েছে। তৃতীয় সম্মেলনের জন্য বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহকে আহ্বায়ক ও বর্তমান প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চুকে সদস্য সচিব করে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি করা হয়েছে।

আ.লীগের একটি সূত্র জানায়, স্বেচ্ছাসেবক লীগের বর্তমান কমিটির অনেক নেতাই ক্যাসিনো ব্যবসা, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অভিযুক্ত। তাদের তালিকা প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হাতে। এদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে আ.লীগ সভাপতি। ফলে সংগঠনটির অনেক নেতাই এখন গা-ঢাকা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে এবারের কমিটিগুলো করার। তাই অনেকেরই ধারণা বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক থাকছেন না নতুন কমিটিতে। এতে অনেক তরুণ নেতাই উৎসাহিত হচ্ছেন। লবিং করে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলে। ধানমণ্ডির আ.লীগ সভাপতিমণ্ডলীর কার্যালয়ে ভিড় করছেন সমর্থকদের নিয়ে।

আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতা জানান, নতুন কমিটিতে শীর্ষ দুই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু। যদি অভিজ্ঞদের দিয়ে কমিটি করা হয় তাহলে এরা দুজনই হতে চলেছেন নতুন কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। রঞ্জন গুহ বর্তমানে বি-বাড়িয়া আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। ৯০-এর ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে ১/১১বিরোধী আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই সহ-সভাপতি। আর সাচ্চুর ১৯৮২ সাল থেকে ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আ.লীগের রাজনীতি শুরু। এরপর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি, আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হয়ে দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি। এখনো তার শরীরে গ্রেনেডের স্পিন্টার রয়েছে। কারাবরণ করেছেন ২০০১ সালপরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে। তবে তরুণদের সমন্বয়ে কমিটি হলে অপেক্ষাকৃত নবীন নেতাদেরও শীর্ষ পদে দেখা যাবে।

সংগঠনটির নেতারা জানান, পরিবর্তনের আভাসে ইতিমধ্যে প্রায় ডজনখানেক তরুণ নেতা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শীর্ষ পদের জন্য। এদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি মঈন উদ্দীন মঈন, আফজালুর রহমান বাবু, তিন সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান জুয়েল, শেখ সোহেল রানা টিপু ও সাজ্জাদ শাকিব বাদশা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরেক নেতা আবদুল আলীম বেপারি, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক ওবায়দুল হক খান। এদের মধ্যে মঈন, বাবু ও বাদশা আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রায় ১৭ বছর সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা পংকজ দেবনাথেরও নতুন করে দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা আছে। তবে দায়িত্বে যেই আসুক, এবারের কমিটি যেহেতু শেখ হাসিনার তত্ত্বাবধানে হবে তাই সর্বোচ্চ যোগ্যরাই নেতৃত্ব পাবেন সেই বিষয়ে আশাবাদী সবাই।

এ বিষয়ে বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু বলেন, ‘আমি দলের জন্য পরিশ্রম করেছি। ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। আশা করছি নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দেবেন। আমার লক্ষ্য হবে যারা দলকে কলুষিত করেছে তাদের খুঁজে বের করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। একই সঙ্গে যারা ত্যাগী ও পরিশ্রমী তাদের যোগ্য মূল্যায়ন করা।’

বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল হাসান খান জুয়েল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সম্মেলন মানেই তারুণ্যের জয়গান। এর মাধ্যমে নেতাকর্মীরা তাদের যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে নেন। আমি ছাত্রলীগ থেকে শুরু করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছি। ওয়ান-ইলেভেনে এক বছর জেলে ছিলাম। বিগত সাত বছরে আমার বিভাগীয় এলাকার ৯০ শতাংশ ইউনিটের সম্মেলন করেছি। সংগঠনকে চাঙ্গা রেখেছি। আমার বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার পরিশ্রমের মূল্যায়ন করবেন।’

মহানগর কমিটিতে থাকছেন যারা

ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম রাব্বানী। তিনি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইসহাক আলোচনায় আছেন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখা যেতে পারে তিতুমীর কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আফরোজ হাবিব, হাবিবুর রহমান পান্না, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, প্রচার সম্পাদক দুলাল হোসেন, মোহাম্মদপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি লায়ন এম এ লতিফের মধ্যে কোনো একজনকে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন সহ-সভাপতি মোর্তজা রাশেদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুল হাসান রিপন। সাধারণ সম্পাদক পদে দেখা যেতে পারে বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, তারেক সাঈদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ উল্লাহ এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ছাত্রলীগের সাবেক আপ্যায়নবিষয়ক সম্পাদক জাভেদ ইকবাল, মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাক আসাদুজ্জামান আসাদ, শেখ আনিসুর রহমান রানা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, মতিঝিল থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেনের মধ্যে কোনো একজনকে।

সার্বিক বিষয়ে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু বলেন, ইতিমধ্যে সম্মেলন উপলক্ষে ১২ উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৬ অক্টোবর বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে সারা দেশের জেলা ও মহানগর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক আসবেন। সম্মেলন কীভাবে সুন্দরভাবে আয়োজন করা হবে এ বিষয়ে সবার পরামর্শ নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ১১ নভেম্বর রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এবং ১২ নভেম্বর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তরের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত