ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) নিয়ে খসড়া প্রস্তাবে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মাত্র ১৬ ভোটে হেরে গেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, বিচ্ছেদ বিলম্বের পক্ষে পার্লামেন্টে ভোট দিয়েছেন ৩২২ জন আইনপ্রণেতা। আর অক্টোবরের ৩১ তারিখ ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩০৬ জন আইনপ্রণেতা।
টোরি দলের আইনপ্রণেতা অলিভার লেটউইনের নেতৃত্বে বিরোধীরা একটি সংশোধনী পাস করায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে এখন ব্রেক্সিটের সময়সীমা বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দেনদরবার করতে হবে। যদিও ভোটের পর পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই হার তাকে ‘ভীত বা হতাশ’ করতে পারবে না। আগামী সপ্তাহে হাউজ অব কমন্সে তিনি আবারও ব্রেক্সিট পরিকল্পনা উত্থাপন করবেন। বিদ্রোহী আইনপ্রণেতারা চাইছেন প্রধানমন্ত্রী যেন ‘বেন অ্যাক্ট’ অনুসারে ব্রেক্সিট বিলম্ব করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে লিখিত চিঠি দেন। কিন্তু জনসন বলেন, ‘আমি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট বিলম্ব নিয়ে কোনো মধ্যস্থতা করব না। আইন আমাকে দিয়ে তা করাতে পারে না।’
এদিকে লেবার পার্টি নেতা জেরেমি করবিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে এখন অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে। তিনি এখন আর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের হুমকি দিয়ে আইনপ্রণেতাদের ব্ল্যাকমেল করতে পারেন না।’
প্রথা ভেঙে গতকাল শনিবারের পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই আবেগঘন ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি পার্লামেন্টের সব আইনপ্রণেতাকে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ নিশ্চিতে তার ব্রেক্সিট খসড়া প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে বলেন। তখন তিনি বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটরা এই চুক্তির বিরোধিতা করলেও, আসুন, আমরা সবাই একত্র হই।’
যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের অধিবেশন সাধারণত সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলে। কখনো কখনো শুক্রবারও অধিবেশন চলে। তবে গত ৮০ বছরে মাত্র চারবার শনিবারে অধিবেশনে বসেছে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। সর্বশেষ ফকল্যান্ড দ্বীপে আগ্রাসন ইস্যুতে ১৯৮২ সালের ৩ এপ্রিল শনিবার বসেছিল ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অধিবেশন। ৩৭ বছরের ব্যবধানে এবার বরিস জনসনের ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদনের জন্য বসে বিশেষ এই অধিবেশন।
আইনপ্রণেতা অলিভার লেটউইন ভোটের পর জানান, জনসনের চুক্তিকে সমর্থন দেওয়ার ইচ্ছে তার ছিল। কিন্তু বেন অ্যাক্টের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে তিনি সংশোধনীর পক্ষে মত দেন। ওই আইনের বলে, কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে পারে না যুক্তরাজ্য। লেটউইনের আনীত সংশোধনীর পক্ষে সবচেয়ে বড় সমর্থন দেয় ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি)।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা আগের চুক্তিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পেতে কয়েক দফা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় প্রধানের পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন জনসনের পূর্বসূরি টেরিজা মে। তখন কনজারভেটিভ পার্টির যেসব এমপি মের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অনেকেই এবার জনসনকে সমর্থন দিয়েছেন।
