সভা-সমাবেশ করতে ঐক্যফ্রন্ট ইস্যু খুঁজে পাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে, তারা মাঠে নেমেছে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদের শক্তিশালী বিরোধী দল প্রয়োজন। কিন্তু সভা-সমাবেশে গিয়ে তারা ইস্যু খুঁজে পাচ্ছেন না। সেই জন্য খড়কুটো ধরে ইস্যু তৈরি করার চেষ্টা করছেন। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর জেএম সেন হল মাঠে বাংলাদেশ তাঁতী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) দুদিনব্যাপী ১৬তম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁতী লীগের তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কিছু কিছু তরুণ-যুবক ও অছাত্র আছেন যারা ফেইসবুকে রাজনীতি করে। সেলফি তুলবে আর সেটা ফেইসবুকে দিয়ে দেবে। অনেকে বলছে এরা সেলফি লীগ। এই সেলফি লীগ ও ফেইসবুক লীগের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। এদের কাছ থেকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
মাঠে নামায় ঐক্যফ্রন্টকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্ট কতক্ষণ কোটা আন্দোলন নিয়ে, কখনো নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে ঘিরে, কখনো আবরার হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু করার চেষ্টা করে। কিন্তু এসব চেষ্টার কোনোটাই হালে পানি পাচ্ছে না। মূলত রাজনীতির মাঠে ওনারা (ঐক্যফ্রন্ট) এখন বিগত যৌবনা। এখন তাদের ডাকে কেউ সাড়া দিচ্ছে না। রাজনীতিতে যে জশ-প্রতিপত্তি ছিল সেটা হারিয়ে গেছে। তারা এখন যে কথাগুলো বলছেন, সেগুলো মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে না।
এর আগে সকালে সিভাসু সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের জনসংখ্যা অনেক বেড়েছে, কমেছে আবাদি জমির পরিমাণ। তারপরও বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশ আজ বিদেশে খাদ্য রপ্তানি করছে। উন্নয়নের অনেক সূচকে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে পাকিস্তানকে এবং কিছু কিছু সূচকে ভারতকেও অতিক্রম করেছে।
সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিভাসু উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্র্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিভাসুর ওয়ান হেল্থ ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. শারমীন চৌধুরী। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, ভারতসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রায় ৩০০ জন বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, পেশাজীবী, এনজিও কর্মী, উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সম্মেলনে মোট ৭টি টেকনিক্যাল সেশনে ৪টি মূল প্রবন্ধ এবং ৫২টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
