ঐক্যফ্রন্টের জনসভাকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, জোটটি রাজনীতির মাঠে সক্রিয় না থাকায় দেশবাসী আর তাদের ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতির মাঠে ফেরার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা আন্দোলন করার মতো কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। গতকাল রবিবার রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনের পর তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্র জোরদার করার জন্য আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল চাই। আমরা চাই, শক্তিশালী বিরোধী দল পার্লামেন্টে আমাদের কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করার পাশাপাশি রাজপথেও সক্রিয় থাকুক।’
তিনি আরও বলেন, ঐক্যফ্রন্ট ভিন্ন জনসভা করছে। তবে, তারা আন্দোলন গড়ে তোলার মতো কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। এ জন্য অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকেই তারা ইস্যু বানাতে চাইছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশবাসী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পরপর তিন মেয়াদে নির্বাচিত করেছে। কিন্তু বিএনপি দাবি করছে যে সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনা করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। এটা নতুন না। আমরা ১১ বছরে ধরে একই কথা শুনে আসছি।’
ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযান সম্পর্কে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্র থেকে সব অনিয়ম ও দুর্নীতি নির্মূলের পদক্ষেপ নিয়েছেন। পর্যায়ক্রমে সব দুর্নীতিবাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আত্মকেন্দ্রিক না হতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানুষের মাঝে দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের পাশাপাশি তাদের সুপ্ত মেধা বিকাশের মাধ্যমে উন্নত জাতি গড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলছে। এ জন্য আমরা দেশব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন করছি। কিন্তু আমরা এমন একটি জাতি চাই, যেখানে দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের প্রাধান্য থাকবে।’
তথমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ এখন কেবল নিজেদের নিয়েই চিন্তা করছে। এ জন্য প্রতিনিয়ত সামাজিক সমস্যা বেড়েই চলছে। কিন্তু আমরা এ ধরনের সমাজ চাই না।’
মন্ত্রী তথ্য কর্মকর্তাদের এমন একটি নতুন ও গতিশীল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানান যাতে সেবাগুলো মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। তিনি সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করার ব্যাপারেও কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান।
এমসিডির মহাপরিচালক মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ও তথ্য সচিব আবদুল মালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
গণযোগাযোগ বিভাগ (এমসিডি) বার্ষিক উদ্ভাবনী কর্ম পরিকল্পনার আওতায় জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার উপায় উদ্ভাবনের লক্ষ্যে জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের জন্য কর্মশালাটির আয়োজন করে। কর্মশালায় দেশব্যাপী ৬৮টি তথ্য কর্মকর্তা প্রতিনিধিরা যোগ দেন।
