দেশে বছরে একবার ব্যবহার্য (ওয়ান টাইম ইউসড) প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ৮৬ হাজার ৭০৭ টন। রাজধানী ঢাকায় যার পরিমাণ ১২ হাজার ২৬৯ টন। এসব বর্জ্যের ৯৬ শতাংশই আসে খাদ্য প্যাকেজিং এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য থেকে।
পরিবেশের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর এ বর্জ্য মাটির সঙ্গে মিশতে হাজার বছর সময় লাগে।
প্লাস্টিক ব্যবহারে এগিয়ে আছে তরুণ সমাজ।
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এর এক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ উপলক্ষে সোমবার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এক সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিষ্ঠানটি।
এতে জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের নগরীর প্রায় ২ হাজার মানুষ এ জরিপে অংশ নেয়। পরিবেশের বিপর্যয় সৃষ্টিকারী প্লাস্টিক বর্জ্যের (ওয়ান টাইম) ৩৫ শতাংশই ব্যবহার করেন ১৫ থেকে ২৫ বছরের তরুণরা। আর ৩৩ শতাংশ সামগ্রী ব্যবহার করে ২৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সসীমার ভোক্তারা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্লাস্টিক দূষণের ৭৮ শতাংশ শহরে ও ২২ শতাংশ গ্রামীণ পরিবেশে ঘটে। সারা দেশে যে পরিমাণ দূষণ হয়, তার ২১ শতাংশ ঘটে ঢাকায়। এসব বর্জ্য মারাত্মকভাবে মানুষ ও প্রাণীকুলের স্বাস্থ্যহানি ঘটাচ্ছে।
ইএসডিও মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘এ বর্জ্য থেকে যে কেমিক্যাল তৈরি হয়, তার কারণে ক্যানসার বাড়ছে। এটা স্লো পয়জন। এমনকি ভৌগোলিক কারণেও আমাদের পানি প্লাস্টিক দূষণের শিকার। বছরে ৭৫ হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য সাগরে যায়।’
ইএসডিও চেয়ারম্যান মারগুব মোর্শেদ বলেন, ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পেতে এখনই সরকারকে সংবেদনশীল হতে হবে। আমাদের সচেতনতা তৈরি জরুরি। অন্য কোনো বিষয় না, আমরা সুস্থ পরিবেশে বাঁচার পথ তৈরি করতে চাই। কেন না, আমাদের নিত্য ব্যবহারের সবকিছুতেই ক্ষতিকর প্লাস্টিক ঢুকে পড়েছে।’
