চলতি বছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিক

কর চাপে মুনাফা কমেছে গ্রামীণফোনের

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১১:২০ পিএম

ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পর চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা কমে গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ বকেয়াকে কেন্দ্র করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে টানাপড়েন শুরুর পর থেকে কোম্পানিটির মুনাফা কমে যাচ্ছে। মূলত কর পরিশোধের চাপে চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে কোম্পানির নিট মুনাফা কমেছে। 

গ্রামীণফোনের কাছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) পাওনা ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অপারেটরটিতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এর আগে নতুন প্যাকেজ অনুমোদন ও এনওসি বন্ধসহ বিটিআরসির বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে গ্রামীণফোনের ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে অপারেটরটি অভিযোগ তুলেছে। যদিও এসব প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই গ্রামীণফোনের আয় বেড়েছে। তবে আয়কর বেশি হওয়ার কারণে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমে গেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের আয় হয়েছে ৩ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। কোম্পানিটির সুদবাবদ ব্যয়ও বেড়েছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের সুদবাবদ ব্যয় হয়েছে ৮৫ কোটি ২০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪৯ কোটি টাকা। এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় থেকে কোম্পানির লাভ হয়েছে ২৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে লোকসানে ছিল।

সব মিলিয়ে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে করপূর্ববর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি। এদিকে চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের কর দেওয়ার পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি আয়কর বাবদ ব্যয় করেছে ৯৭০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮৪০ কোটি টাকা। কর পরিশোধের পর চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোনের নিট মুনাফা হয় ৭২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

আগের বছরের তুলনায় চলতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গ্রামীণফোনের কর পরিশোধের পরিমাণ বাড়ে ১৩৩ শতাংশ। এ সময় আয় বাড়লেও দ্বিতীয় প্রান্তিকের নিট মুনাফা কমে ৮ শতাংশের বেশি।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইকেল প্যাট্রিক ফোলি বলেন, ‘প্রতিক‚ল নিয়ন্ত্রকমূলক পরিবেশ থাকা সত্তে¡ও আমরা তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী ব্যবসায়িক ফলাফল অর্জন করেছি। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন বা এনওসি প্রদান বন্ধের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গ্রামীণফোন দেশের ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ গ্রাহককে তার নেটওয়ার্কের আওতায়  মোবাইল সেবা প্রদান করছে।  

এদিকে ২০১৯ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) গ্রামীণফোন মোট ১০ হাজার ৭৫০ কেটি টাকা আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপারেটরটির গ্রাহকসংখ্যা ৬ শতাংশ বেড়ে ৭ কোটি ৫৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন ৪ লাখ নতুন গ্রাহক নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করেছে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৯ লাখ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করছেন।

চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গ্রামীণফোনের পরিচালন মুনাফা হয় ৫ হাজার ১৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানির সুদবাবদ ব্যয় হয় ১৮৬ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে গ্রামীণফোন ২ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা কর বাবদ পরিশোধ করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। অবশ্য চলতি তৃতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা কমলেও সার্বিকভাবে প্রথম ৯ মাসে নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে কোম্পানিটির নিট মুনাফা হয়েছে ২ হাজার ৫৩১ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা।   

সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে একমাত্র গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। সরকারের পাওনাকে কেন্দ্র করে বিটিআরসির সঙ্গে বিরোধের কারণে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধের মধ্যে পড়েছে কোম্পানিটি। যার প্রভাবে পুঁজিবাজারে কোম্পানির শেয়ার দর কমছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪১৭ টাকা থেকে ৩১৫ টাকায় নেমে এসেছে। পুঁজিবাজারের শীর্ষ মূলধনী কোম্পানি হওয়ায় গ্রামীণফোনের প্রভাবে স্টক এক্সচেঞ্জের বাজার মূলধন ও সূচকও কমছে। এর কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত