উপক‚লের মানুষদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় চলমান ৫৫৬টি বহুমুখী দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হওয়া ২ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্প ২০২১ সালের ডিসেম্বর নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। তবে গত চার বছরে অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৭ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রকল্পের ঋণ সহায়তাদানকারী সংস্থা বিশ^ব্যাংক প্রকল্পের ব্যয় ২৩৫ কোটি টাকা বাড়াচ্ছে। এতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ৩ হাজার ১৭০ কোটি টাকা।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী অনুমোদনের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।
প্রকল্পের আওতায় ৫৫৬টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ, ৪৫০টি বিদ্যমান সাইক্লোন শেল্টারের উন্নয়ন, ৫৫০ কিলোমিটার সাইক্লোন শেল্টার সংযোগকারী সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ এবং স্কোপ প্রটেকশন দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের উপক‚লীয় অঞ্চলে বন্যা, সাইক্লোন ও অন্যান্য
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মানুষের জীবন, সম্পদ, আশ্রয়স্থল, গবাদিপশু ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই উপক‚লীয় জনগণের সুরক্ষার প্রয়োজন। প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, অন্তর্ভুক্ত ভৌত কাজের প্যাকেজ অনেক বড়। এগুলো মূল্যায়নসহ অন্যান্য কাজ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লেগেছে। এজন্য নির্মাণকাজের অগ্রগতি বিলম্ব হয়েছে। এছাড়া উপক‚লীয় অঞ্চলের
প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন আগাম বৃষ্টিপাত ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অবস্থান প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় মালামাল পরিবহন কষ্টসাধ্য। এজন্য প্রকল্পটি সংশোধন করে ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। প্রকল্প সংশোধনের কারণ
হিসেবে প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ডিপিপি প্রণয়নের সময় ‘রেট শিডিউল’ অনুযায়ী সাইক্লোন শেল্টারের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়। বর্তমানে ২০১৮ সালের রেট শিডিউলের জন্য সাইক্লোন শেল্টারের ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। বাস্তবতার নিরিখে শেল্টারের মূল ডিজাইনে কিছু পরিবর্তন ও কিছু উপকরণ সংযোজিত হয়েছে। তাই প্রতিটি শেল্টারের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের তারতম্যের কারণেও প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য জাকির হোসেন আকন্দ বলেন, প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। উপক‚লীয় ৯টি জেলার ৭৪টি উপজেলায় আশ্রয়কেদ্র নির্মাণ করা হলে বন্যা, সাইক্লোন ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা পাবে। তাই মূল প্রকল্পটির সংশোধনীর প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।
