দক্ষিণ এশীয় মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় ভারত বাংলাদেশের ২৫টি বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দিলেও দেশটির আরোপিত নানা অশুল্ক বাধা, খাদ্যপণ্য পরীক্ষার প্রক্রিয়া, ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণসহ নানা বাধার কারণে দেশটিতে প্রত্যাশা মোতাবেক বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।
গতকাল মঙ্গলবার ভারতের আসাম রাজ্যের গৌহাটিতে ‘বাংলাদেশ-ভারত স্টেকহোল্ডার্স মিটিং’য়ে অংশ নিয়ে এ কথা বলেন তিনি। টিপু মুনশি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সমস্যাগুলো ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধা সংক্রান্ত আইন, নিয়মকানুন শিথিল করা প্রয়োজন। এসব বিধানের কারণে উভয় দেশের বাণিজ্যই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
গত অর্থবছর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৮৯০ কোটি ডলার। এর মধ্যে মাত্র ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে। বাকি ৭৬৫ কোটি ডলারের পণ্য ভারত বাংলাদেশে রপ্তানি করে।হঠাৎ করেই ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে বিপাকে ফেলেছে উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জানালে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ আমদানি করে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারত।
টিপু মুনশি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অপরিকল্পিত যোগাযোগ ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য বাড়ার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের বিষয়ে এসওপি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু এখনো সন্তোষজনক সুফল অর্জিত হয়নি। এখন সময় এসেছে উদ্যোগগুলো কাজে লাগিয়ে সুফল অর্জন করার।
অনুষ্ঠানে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, ভারতের রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়েবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেনারেল ভি কে সিং, আসামের অর্থমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং আসামের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী চন্দ্র মোহন পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
