প্রশাসক নিয়োগে আরও সময় চায় বিটিআরসি

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:২৩ এএম

সরকারের পাওনা পরিশোধে মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের আরও কিছুদিন সময় দিতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। গত সোমবার (২১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিটিআরসি। কমিশন সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে গ্রামীণফোন ও রবির কাছে পাওনার বিষয়টি আদালতের বাইরে নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে ওই দুই অপারেটরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এ ক্ষেত্রে গ্রামীণফোন ও রবি যদি সরকারি পাওনার কিছু অংশ বিটিআরসিকে পরিশোধ করে, তাহলে সমঝোতার আলোচনা ফের চালু হতে পারে। এজন্য সপ্তাহখানেক বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখবে বিটিআরসি। এর মধ্যে পাওনার কিছু অংশ অপারেটররা দিলে নিরীক্ষা নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু হবে। অন্যথায় প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। তবে গ্রামীণফোন ও রবির কাছ থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত পায়নি সংস্থাটি।

গ্রামীণফোন ও রবির কাছে সরকারের প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকার বকেয়া আদায় করতে না পেরে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত ১৭ অক্টোবর বিটিআরসিকে অপারেটর দুটিতে প্রশাসক নিয়োগের অনুমতি দেয়। তবে প্রক্রিয়াটি এখনো শুরু করেনি বিটিআরসি। আর পাওনার পরিশোধের বিষয়ে উচ্চ আদালতে যায় গ্রামীণফোন ও রবি, যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সমঝোতার একটি উদ্যোগ নেন, যেখানে প্রতি মাসে গ্রামীণফোনকে ১০০ কোটি ও রবিকে ৫০ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তে নিরীক্ষা নিষ্পত্তি বিষয়ে পর্যালোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে অপারেটর দুটি কোনো টাকা না দেওয়ায় সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়।

যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোন ও রবি আজিয়াটার কাছে সরকারের পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের কাছে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ও রবি আজিয়াটার কাছে ৮৬৭ কোটি বকেয়া রয়েছে। ১৯৯৬ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির পাওনা ও এর সুদ মিলিয়ে ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা দাবি করে গত ২ এপ্রিল চিঠি পাঠায় বিটিআরসি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত