চলমান ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব, তার স্ত্রী রাসনা হাসান পানসির ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ফলে তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে এখন আর কোনো লেনদেন করা যাবে না। এছাড়া মোহাম্মদপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান ও তার স্ত্রী মনি রহমানের হিসাবও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান এখন কারাগারে রয়েছেন। গতকাল রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে দেশের তফসিলি সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) কাছে তাদের হিসাব জব্দের চিঠি পাঠিয়েছে। এছাড়া যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি এনামুল হক আরমান, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা আবু কাওসার, যুবলীগের সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুর রহমানের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে বলে একাধিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও কর ফাঁকির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, তার স্ত্রী সায়েমা আফরোজ এবং বাবুর মালিকানাধীন চার প্রতিষ্ঠান সূচনা ডাইং প্রিন্টিং ওয়েভিং ইন্ডাস্ট্রিজ, বাবু এন্টারপ্রাইজ, সূচনা ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে এনবিআর। ২০১২ সালের ১ জুলাই থেকে বাবু, তার স্ত্রী ও এসব প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের হিসাবের লেনদেনের তথ্য, ভল্ট বা সঞ্চয়পত্রসহ সব তথ্য আগামী সাত দিনের মধ্যে চেয়েছে এনবিআর।
এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর বাবুর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদশালী হয়ে ওঠার তথ্য রয়েছে এনবিআরের কাছে। জানা গেছে, রাজধানীর গুলশানে ১৫ নম্বর রোডে ১ নম্বর প্লটে র্যাংগস ওয়াটার ফ্রন্ট অ্যাপার্টমেন্টে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট কিনে সপরিবারে বাস করছেন। ৩ হাজার ২৩৮ বর্গফুটের সুবিশাল এ ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা। সম্পূর্ণ বিদেশি ফিটিংস ও অভিজাত আসবাবপত্রে ঠাসা তার এ ফ্ল্যাট।
২০০৮ সালে নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী তখন তার ব্যাংকে নগদ টাকা ছিল মাত্র ৫০০। এছাড়া তার ওপর নির্ভরশীলদের নামে ছিল ২০ হাজার টাকা। এর বাইরে সাড়ে ৮ শতাংশ পৈতৃক জমির কথা উল্লেখ করেছিলেন ঠিকাদার পেশার বাবু। পাঁচ বছর পর ২০১৩ সালের নির্বাচনে তার হলফনামা নগদ অর্থ দেখানো হয় ৭২ লাখ ২১ হাজার ৫২৭ টাকা। আছে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ। তার রয়েছে একাধিক ফ্ল্যাট, অঢেল ভূ-সম্পত্তি ও চারটি ব্যবসায়িক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
হিসাব তলব করা হয়েছে পিয়ন থেকে যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হওয়া কাজী আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমানের। এছাড়া কাজী আনিসের মালিকানাধীন মা ফিলিং স্টেশন ও আরেফিন এন্টারপ্রাইজের হিসাবও তলব করা হয়েছে। কৃষক লীগের সভাপতি শফিউল আলম ফিরোজের হিসাবের তথ্যও তলব করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আবদুল ওয়াদুদ ও তার স্ত্রী ফরিদা ওয়াদুদ, চট্টগ্রামের চান্দনাইশ থানার হাশিমপুরের শীলপাড়ার জয় কুমার শীল, সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার মোহাম্মদ এনামুল হক ও জায়েদ আহমেদ, নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি থানার মঞ্জুর আহমেদের হিসাবের তথ্য তলব করা হয়েছে। এদের মধ্যে মোহাম্মদ এনামুল হক একজন আদম ব্যবসায়ী এবং মে মাসে ইউরোপে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় নিহতদের মধ্যে কয়েকজনকে এনামুল পাঠান তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিসের মাধ্যমে।
