পরস্পরের প্রশংসায় মুখর মোদি-অভিজিৎ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫০ এএম

এ বছর অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী ভারতীয় বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় দেখা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে। গতকাল মঙ্গলবারের ওই সাক্ষাতের পর দুজনই জানিয়েছেন পরস্পরের প্রতি ভালো লাগার কথা। দলের অনেকেই অভিজিৎকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও খোদ মোদি করেছেন অভিজিৎ বিনায়কের ভূয়সী প্রশংসা। বিজেপি সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত অভিজিৎও বলেছেন, মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ  ছিল এক অভিনব অভিজ্ঞতা।

গতকাল দিল্লিতে ওই সাক্ষাতের পরে অভিজিৎ এক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়াটা ছিল আমার জন্য বিশেষ সুবিধা। তিনি ধৈর্যের সঙ্গে আমার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেছেন। ভারতকে কী করে আরও উন্নত করা যায় সে বিষয় তিনি আগ্রহ সহকারে আলোচনা করেছেন।’

অভিজিৎ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ভারত সম্পর্কে তার চিন্তাভাবনা নিয়ে অনেক কথা বলেছেন, যা বেশ অভিনব। দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে এবং কেন মানুষের অবিশ্বাস তৈরি হয় সরকারের প্রতি, তা নিয়েও তার দৃষ্টিভঙ্গি তিনি জানিয়েছেন।’

বৈঠকে দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বিশেষ কথা হয়েছে উল্লেখ করে অভিজিৎ বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে যে অর্থ মানুষ ব্যয় করছে, তার পরিবর্তে উপযুক্ত পরিষেবা পাচ্ছে না। বাড়িতে একজন অসুস্থ হলে পরিবার সর্বস্ব হারায়। দেশের স্বাস্থ্য উন্নয়নে নারীর স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দিকে আরও নজর দেওয়া প্রয়োজন। পরিস্থিতি বদলানো দরকার। গরিবদের জন্য আরও বেশি কাজ করা উচিত। গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবা কীভাবে আরও উন্নত করা যায় সে বিষয়ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ কথাবার্তা হয়েছে।’

শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও মোদির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে এই নোবেলজয়ী বলেন, ‘ভারতে আমার কাজ শিক্ষা নিয়ে। ২৫ বছর ধরে রিসার্চ করেছি। চেষ্টা করে যাচ্ছি শিক্ষার মানোন্নয়ন কীভাবে করা যায়।’

অভিজিৎ নোবেল পাওয়ার পর টুইটারে তাকে মোদি অভিনন্দন জানালেও অনেকের মতে তা ছিল সাদামাটা। ১৪ অক্টোবর টুইটারে অভিনন্দন জানিয়ে মোদি বলেছিলেন, ‘দারিদ্র্য দূরীকরণে তিনি (অভিজিৎ) উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।’

তবে তার সাক্ষাতের পর দেওয়া মোদির টুইটটি বেশ উচ্ছ্বাসপূর্ণ। অভিজিতের প্রশংসায়ও পঞ্চমুখ তিনি। সাক্ষাতের পরপরই এক টুইটে মোদি লিখেছেন, ‘নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দারুণ বৈঠক হয়েছে। মানব ক্ষমতায়নে তার যে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়। খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। ভারত তার জন্য গর্বিত। আগামী দিনের জন্য তাকে অনেক শুভেচ্ছা।’

এ বছরের শুরুতে লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের জন্য ভারতের আর্থিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণে ন্যায় প্রকল্পের রূপরেখা তৈরিতে সহযোগিতা করেছিলেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। ন্যায় প্রকল্পে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষকে মাসে ছয় হাজার রুপি করে আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন রাহুল গান্ধী লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে। সেই কারণেই বিজেপির নেতা-সমর্থকদের চক্ষুশূল হন অভিজিৎ। 

এর আগে নোবেলজয়ের পর অভিজিতের বিষয়ে বিজেপি নেতারা বলেন, ‘তার অর্থনীতির তত্ত্ব ভারতে খাটে না। ভারতের মানুষ তার অর্থনৈতিক তত্ত্বকে খারিজ করে দিয়েছে। ভারতে দারিদ্র্যদূরীকরণে তার তত্ত্ব কাজে আসবে না। মহাত্মা গান্ধীর নীতিতেই ভারতের আর্থিক উন্নতি সম্ভব।’ কেউ কেউ বলেন, বিদেশিনীকে বিয়ে করেছেন বলেই নোবেল জিতেছেন অভিজিৎ। যেমনটা অধ্যাপক অমর্ত্য সেনও পেয়েছিলেন।

গত শুক্রবার ভারতে এসেছেন ফরাসি স্ত্রী এস্থার ডাফলো ও মার্কিন অর্থনীতিবিদ মাইকেল কেমারের সঙ্গে এ বছর যৌথভাবে নোবেলজয়ী অভিজিৎ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত