ব্রাজিল-জাপানের ফ্লেভার দিতে এসেছেন ব্রুনো

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৯ এএম

মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এফসির হয়ে ভারত আই লিগ চ্যাম্পিয়ন চেন্নাই সিটি এফসির জালে চার গোল করে মঙ্গলবার সব আলো কেড়ে নিয়েছিলেন ব্রুনো সুজুকি। বাবা ব্রাজিলিয়ান। জন্মও ব্রাজিলে। আর মা জাপানি বলে শৈশব-কৈশোর কেটেছে জাপানে। চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে শেখ কামাল ক্লাব কাপে নিজের পায়ের কারুকাজে ব্রাজিলিয়ান-জাপানি ফুটবলের সৌরভ ছড়িয়ে দিতে চান ব্রুনো।

ব্রাজিলের বেলেম শহরটি আমাজন জঙ্গলের ঠিক পাশেই। সেখানেই জন্ম ব্রুনোর। ব্রাজিলের অপরাধপ্রবণ শহরগুলোর একটি বেলেম। হানাহানি, অস্ত্রের ঝনঝনানি ছিল নিত্য-ব্যাপার। এমন শহরে বসবাস তাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল ব্রুনোর বাবা-মায়ের কাছে। ছয় বছরের ব্রুনোকে নিয়ে তাই জাপান পাড়ি জমান। সেই থেকেই জাপানে আছেন। এখন জাপানের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন ব্রুনো। সাত বছর বয়সে ফুটবলের হাতেখড়ি। জাপানের বয়সভিত্তিক দলগুলোতে জায়গা না পেলেও বিভিন্ন ক্লাবের অ্যাকাডেমি দলে খেলেছেন। ১৯ বছর বয়সে জাপানে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরুর দেড় বছর পর ধারে সিঙ্গাপুর লিগে খেলতে যান। তিন বছর সেখানে খেলার পর ফের ফিরে আসেন জাপানে। ২০১৮ সালে তেরেঙ্গানু এফসির ‘বি’ দলে যোগ দেন এই স্ট্রাইকার। সেই মৌসুমেই ‘এ’ দলে ডাক পেয়ে যান। তবে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বলে ফের ‘বি’ দলে ফিরতে হয়। চট্টগ্রামের টুর্নামেন্টের জন্যই ব্রুনোকে আবার ‘এ’ দলে নিয়ে আসা হয়েছে। এবারের সুযোগটা তিনি কাজে লাগান ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো চার গোল করে। ‘আগে ক্যারিয়ারে গোটা চারেক হ্যাটট্রিক করেছি। কিন্তু কখনো এক ম্যাচে চার গোল করা হয়নি। এ কারণেই এই টুর্নামেন্ট আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

ব্রাজিল এবং জাপানের সঙ্গে নামটা জড়িয়ে গেলেও এ দু’দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কখনই খেলা হয়নি তার। বয়স এখন ২৯। এখন স্বপ্ন দেখেন এক দিন ফিরে যাবেন জন্মভূমি ব্রাজিলে। ফুটবল পাঠ জাপানে হলেও সেখানকার ফুটবল দাগ কাটেনি। বরং এখনো ব্রাজিলিয়ান ছন্দে বুঁদ হয়ে আছেন, ‘আমার রোল মডেল দ্য ফেনোমেনোন (রোনালদো)। এখন ভালো লাগে নেইমারের খেলা। কখনো যদি সুযোগ হয় ব্রাজিল ফিরে যাব। কারণ, ব্রাজিলের ফুটবল আর সংস্কৃতি আমাকে খুব টানে। জাপানের জীবন বড্ড যান্ত্রিক। সেখানে কেবল কাজ আর কাজ। আর ব্রাজিলে পার্টি আর পার্টি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত