রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও হেডম্যান (মৌজাপ্রধান) দীপময় তালুকদারকে (৪৫) অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল বুধবার সকাল ৮টার দিকে ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের জিরোমাইল হলুদিয়াপাড়া থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে দীপময়কে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সকালে রাঙ্গামাটি শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে জেলা বিএনপি। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)।
দীপময় ৩৩৩ নং ঘিলাছড়ি মৌজার হেডম্যান, একই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির কার্যকরী কমিটির সদস্য ছিলেন। রাজস্থলী থানার ওসি মফজল আহম্মেদ জানান, সকালে ঘিলাছড়ির জিরোমাইল এলাকায় দীপময় তালুকদারের লাশ পাওয়া যায়। তার মাথায় গুলি ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত মঙ্গলবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা মৌখিকভাবে তাকে অপহরণের অভিযোগ করেন। কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, ঠিকাদারির কাজে গত মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে হলদিয়া জিরো পয়েন্টে গেলে দীপময়সহ চারজনকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী অপহরণ করে। পরে রাতে তিনজনকে মুক্তি দিলেও তারা রাতে দীপময়কে হত্যা করে সড়কের পাশে লাশ ফেলে যায়।
এদিকে দীপময় তালুকদারকে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল সকালে রাঙ্গামাটি শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে জেলা বিএনপি। মিছিলটি জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কোর্টবিল্ডিং এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এ সময় এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন বিএনপি নেতারা। জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, গত মঙ্গলবার বিকেলে দীপময়কে অপহরণ করা হয়েছিল। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পাহাড়ে বর্তমানে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দ্ব›দ্ব রয়েছে।
অন্যদিকে সাবেক জনপ্রতিনিধি ও হেডম্যান দীপময়কে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। গতকাল দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের রাঙ্গামাটি জেলা ইউনিটের সংগঠক সচল চাকমা বলেন, বান্দরবানসহ পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে একের পর এক হত্যাকাণ্ডের পরও অপরাধীদের বিচার ও শাস্তি না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা এসব অপকর্ম চালিয়ে যেতে সাহস পাচ্ছে। অবিলম্বে দীপময়ের খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিবৃতিতে সরকারের প্রতি দাবি জানানো হয়।
