কক্সবাজারের মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পে দুর্নীতি

ডিসির বিরুদ্ধেও মামলা

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০১৯, ০৪:১৩ এএম

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণ দিতে ঘুষ আদায় ও অনিয়মের অভিযোগে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. কামাল হোসেনসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি করেন কেফায়েতুল ইসলাম নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা। ২০১৪ সালে একই প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন

জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনের বিরুদ্ধেও মামলা হয়।

মামলায় জেলা প্রশাসককে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার, ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদ, অতিরিক্ত ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মোমিনুল হক ও দেবতোষ চক্রবর্তী, ভ‚মি অধিগ্রহণ শাখার কানুনগো মিলন কান্তি চাকমা, সার্ভেয়ার কেশব লাল দাস, ইব্রাহিম, সিরাজুল হায়দার, আবুল খায়ের এবং ছয়জন স্থানীয় অধিবাসী মাতারবাড়ীর লাইল্যা ঘোনা এলাকার মো. সেলিম ওরফে সেলিম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, ইসলাম মিয়ার তিন ছেলেমেয়ে অলি আহমদ, জামাল উদ্দিন ও তাহেরা বেগম, আলী আসকরের ছেলে রোমেনা আফরোজ ও মাতারবাড়ীর মগডেইল এলাকার আবু ছালেককে আসামি করেছেন মাতারবাড়ী ইউনিয়নের সিকদারপাড়ার মরহুম ডা. আমান উল্লাহর ছেলে কেফায়েতুল ইসলাম।

সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ও কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার হাসান মো. ফিরোজ মামলাটি আমলে নিয়েছেন। তিনি মামলার বাদী কেফায়েতুল ইসলামের জবানবন্দিও নিয়েছেন।

কেফায়েতুলের পক্ষে মামলাটি উত্থাপন করেন কক্সবাজারের আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, চলতি ২০১৯ সালের ১৬ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে বাদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের জন্য গেলে ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহমদের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফুল আফসার ও ভ‚মি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা অন্য আসামিদের যোগসাজশে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

বাদীর অভিযোগ, তাকে অফিসে বসিয়ে রেখে বাধ্য করে তাৎক্ষণিক ৫০ হাজার টাকা ঘুষ আদায় করেন এবং ঘুষের অবশিষ্ট টাকা ৭ দিনের মধ্যে দিলে ক্ষতিপূরণের চেক দেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঘুষ নেওয়ার পর বাদীর অধিগ্রহণ হওয়া ৯৪, ৫০৭৯৯৪, ৫০৭৯, ৫০৮২ ও ৫০৮৬ দাগের ক্ষতিপূরণের চেকে মনোয়ারা বেগমসহ অন্য ছয়জনের ‘কেনা সম্পত্তি’ দেখিয়ে প্রাপ্য ১৮ লাখ ৩ হাজার ৩১৯ টাকা ভাগ করে বাদীকে ৮ লাখ ৭২ হাজার ২৬৯ টাকার চেক দেওয়া হয়। বাকি টাকা মনোয়ারা বেগমসহ অন্যদের হয়।

কেফায়েতুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ঢাকার সেগুনবাগিচার সদর দপ্তরে যান। ওখান থেকে পরামর্শ দেওয়া হয় কক্সবাজারের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলা করতে।

বাদীর আইনজীবী মোহাম্মদ জাকারিয়া জানান, বাদীর এজাহারটি আদালত গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে তার জবানবন্দিও নিয়েছে। তবে কোনো আদেশ দেয়নি।

২০১৪ সালে একই প্রকল্পের ২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিনসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়। এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী নামের মাতারবাড়ী সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা মামলাটি করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত