রাজধানী মোহাম্মদপুরে এক শিশু গৃহকর্মীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির নাম জান্নাতি (১২)।
শিশুর বাবা জানু মোল্লা জানান, ‘আমার মেয়ের কপালের মাঝখানে, মাথায়, নাকের ওপর, গলার ডানে, দুই হাতের বাহুতে, উভয় পায়ের উড়ুতে, তলপেটে আঘাতের চিহ্ন ও ক্ষত দেখা গেছে’।
জানা গেছে, চার বছর ধরে মোহাম্মদপুরের ৬/৫ স্যার সৈয়দ রোডের দ্বিতীয় তলার এ/১ নম্বর ফ্ল্যাটে রুকসানা পারভীন (৩৮) ও সাঈদ আহম্মেদ (৪২) দম্পতির বাসায় কাজ করত জান্নাতি। বুধবার রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে গিয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে। পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে বৃহস্পতিবার জান্নাতির বাবা জানু মোল্লা মোহাম্মদপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী মেয়েটিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন রুকসানা পারভীন ও তার পরিবারের সদস্যরা। প্রাথমিক তদন্তে খুনের আলামত পাওয়ায় রুকসানা পারভীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এখন ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হত্যা ও ধর্ষণের বিষয়টি পরিষ্কার হবে।
মামলার এজাহারে মেয়েটির বাবা জানু মোল্লা উল্লেখ করেন, তাদের বাড়ি বগুড়ার গাবতলী থানার তেলিহাটা ফকিরপাড়া গ্রামে। প্রায় চার বছর ধরে জামালপুরের বকশিগঞ্জের সরকারপাড়া আইরমারী গ্রামের রুকসানা পারভীনের বাসায় তার মেয়ে জান্নাতি কাজ করে আসছিল।
এজাহারে বলা হয়, বুধবার সকাল অনুমান ৬টার দিকে রুকসানা পারভীন মোবাইল ফোনে জানায়, আমার মেয়ে জান্নাতি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাকে দেখার জন্য ঢাকায় আসতে বললে আমি দ্রুত রওনা দিই। বগুড়া থেকে রওনা হয়ে দুপুর ১২টার দিকে আমি সিরাজগঞ্জ পৌঁছালে রুকসানা পারভীন আবার মোবাইলে জানান, আমার মেয়ে মারা গেছে।
এজাহার সূত্রে আরো জানায়, তখন আমি (জান্নাতির বাবা) আবার বাড়িতে ফিরে যাই। আমার শ্যালক মনিরুল ইসলাম, ফুপাত শ্যালক আরিফুল ইসলাম, চাচা শ্বশুর সবুজ মোল্লাসহ পিকআপযোগে রাত অনুমান তিনটার দিকে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে গিয়ে জান্নাতির মৃতদেহ শনাক্ত করি।
এজাহারে জান্নাতির বাবা আরো উল্লেখ করেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ আমার মেয়ের মৃতদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরবর্তীতে রুকসানা পারভীনের বাসাসহ আশপাশের বাসার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি, রুকসানা পারভীন ও তার স্বামী মো. সাঈদ আহম্মেদসহ (৪২) অজ্ঞাতনামা আসামিরা আমার মেয়েকে তাদের বাসায় মাঝে-মধ্যেই মারধর করত।
‘২২ অক্টোবর বিকেল অনুমান ৩টার দিকে আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা আমার মেয়ে জান্নাতিকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাত অনুমান ১১টার দিকে আমার মেয়ের মৃতদেহ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মেয়েকে মৃত ঘোষণা করেন’।
