প্রথমবারের মতো ‘মিস ইউনিভার্স’ সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সে মঞ্চে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন ঠাকুরগাঁওয়ের মেয়ে শিরিন আক্তার শিলা। গত ২৩ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরা কনভেনশনের নবরাত্রী হলে
জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিজয়ীর মাথায় ডায়মন্ডের মুকুট পরিয়ে দেন ১৯৯৪ সালের মিস ইউনিভার্স
বিজয়ী বলিউড তারকা সুস্মিতা সেন। বিজয়ী হওয়ার পর শিলার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণপ্রথম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ হয়ে কেমন লাগছে?
এক কথায় উত্তর দিতে চাই। আমি প্রথম মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ, তার মানে আমিই বাংলাদেশ। আজ থেকে বাংলাদেশকে বিশে^র দরবারে তুলে ধরার দায়িত্ব আমার কাঁধে এসে পড়েছে। আমার বাবা একজন সৈনিক (বিজিবি)। তিনি প্রতিটি মুহূর্ত দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য কাজ করছেন। আর আমি আজ থেকে প্রতিটি মুহূর্ত ব্যয় করব দেশের উন্নয়নের জন্য।
কী ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ করতে চান দেশের জন্য?
আমি প্রথমেই নজর দিতে চাই শিক্ষাক্ষেত্রে। আমরা সবাই একমত হব যে, প্রতিটি শিশুর প্রথম শিক্ষা কিন্তু পরিবার থেকেই হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনো অনেক অভিভাবক আছেন যারা পড়াশুনা জানেন না। তাই আমি অভিভাবকদের শিক্ষিত করার দিকে নজর দেব। এছাড়া বয়স্ক ও অসহায় মানুষদের জন্য আশ্রম নির্মাণের ইচ্ছা রয়েছে। আরেকটি বিষয় আমাকে খুব নাড়া দেয়। তা হলো পরিবেশ। আমরা প্রতিনিয়ত গাছ কেটে ফেলছি। এর কী ভয়াবহ পরিণাম হতে পারে সে সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করতে চাই। মানুষকে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে উদ্বুদ্ধ করতে চাই।
আপনার লেখাপড়া কোন পর্যায়ে?
আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।
প্রথম রানারআপ আলিশা ইসলাম আর দ্বিতীয় রানারআপ জেসিয়া ইসলামের চেয়ে কোন দিকটি আপনার ভালো বলেই বিজয়ী হয়েছেন?
আমি বলছি না তারা আমার চেয়ে কোনো দিক দিয়ে খারাপ। আসলে টপ টেনে যারাই ছিলেন সবাই যোগ্য। আমরা সবাই খুব পরিশ্রম করেছি। তবে আমাদের শেষ ধাপ অর্থাৎ প্রশ্ন-উত্তর রাউন্ডে আমার উত্তর সবাই পছন্দ করেছেন। বিশেষ করে সুস্মিতা সেন খুব প্রশংসা করেছেন। আমি যা উত্তর দিয়েছি মন থেকেই দিয়েছি, প্রতিটি শব্দ বিশবাস করেই বলেছি। তাই হয়তো সবার আবেগকে ছুঁয়ে গেছে। আমার মাতৃভাষায় প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমার উত্তর শুনে সুস্মিতা ম্যাম বলেছেন, ভাষা কোনো বিষয় নয়, যদি তার মধ্যে আবেগ ও অনুভ‚তির জায়গা শক্ত থাকে।
সাউথ কোরিয়ায় ‘মিস ইউনিভার্স’-এর ৬৮তম আসরে আপনি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করবেন। কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন?
আমি দেশ, দেশের মাটি, মানুষ, ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নিজের মধ্যে ধারণ করি। আমার এতটুকু জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে দেশকে ধারণ করেই বেড়ে উঠেছি। তাই দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার প্রস্তুতি সবসময় ছিল। এখন যেহেতু প্ল্যাটফর্ম পেয়েছি, চেষ্টা করব সেটার শতভাগ ব্যবহার করার। দেশের জন্য ভালো কিছু বয়ে আনতে চাই সেখান থেকে।
