কোচ মারুফুল হকের সাফল্যের তালিকা করলে সবার ওপরে থাকবে ২০১৪ সালে ভুটানে অনুষ্ঠিত কিংস কাপের শিরোপা। শেখ জামাল ধানমণ্ডিক্লাবকে জেতানো সেই শিরোপা আন্তর্জাতিক ফুটবলে কোচ হিসেবে তার একমাত্র প্রাপ্তি। সে আসরেই দারুণ একটা স্মৃতি আজ হতে পারে তার বর্তমান দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে আজ চট্টগ্রাম আবাহনী মুখোমুখি হবে কলকাতা জায়ান্ট মোহনবাগানের। ‘এ’ গ্পের এই ম্যাচ থেকে মারুফুলের শিষ্যদের প্রয়োজন ১ পয়েন্ট। তাতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে। এই ম্যাচের প্রতিপক্ষ মোহনবাগান বলেই উজ্জীবিত মারুফুল। কারণ ২০১৪’র কিংস কাপে মারুফুলের শেখ জামাল মোহনবাগানকে হারিয়েছিল ৫-৩ গোলে। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের বিপক্ষে সেটিই ছিল বাংলাদেশের কোনো ক্লাবের সর্বশেষ ম্যাচ। কাকতালীয়, এবারের দেখায়ও বাগান কোচকে ট্যাকটিক্যাল লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে মারুফুলের সঙ্গে। দেশের একমাত্র উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্সধারী কোচ মারুফ এই লড়াইয়েও নিশ্চয় জিততে চাইবেন। ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৭টায়। তার আগে বিকেল ৪টায় সেমিফাইনালের লক্ষ্যে টিসি স্পোর্টসের বিপক্ষে মাঠে নামবে লাওসের ইয়ং এলিফ্যান্ট ক্লাব। আজ ইয়ং এলিফ্যান্ট যদি প্রথম ম্যাচে জিতে যায় তবে পরের ম্যাচে চট্টগ্রাম আবাহনীর ড্র করলেই চলবে। প্রথম দু’ম্যাচে জয়ের সুবাদে বাগানের কাছে হারলেও সম্ভাবনা থাকবে স্বাগতিকদের। সেক্ষেত্রে গোল গড়ে চ‚ড়ান্ত হবে এই গ্রপের দুই সেমিফাইনালিস্ট। জটিল এই সমীকরণকে সামনে রেখে তাই আজ মোহনবাগানের জন্য জয়ের বিকল্প নেই। ইয়ং এলিফ্যান্টের কাছে প্রথম ম্যাচে হারের হতাশায় ডোবা ভারতীয় দলটি দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ায় টিসি স্পোর্টস ক্লাবকে হারিয়ে।
মারুফুলও জয় ভিন্ন কিছু ভাবছেন না। প্রথম দু’ম্যাচে তার ফরোয়ার্ডরা চারটি করে মোট ৮ গোল করেছেন। বিপরীতে গোল খেয়েছেন ৩টি। গোল পাওয়া নিয়ে তাই তেমন ভাবনা নেই অভিজ্ঞ এই কোচের। বরং অতীত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মারুফুল চাইছেন জয় পেতে যাতে দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে গ্রপ সেরা হয়ে। মারুফুল একাদশ সম্পর্কে ধারণা দেননি। বরং আজ প্রথম ম্যাচ দেখেই তিনি নেবেন চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দলের অতিথি খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ ক’জন রয়েছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়। ব্যস্ত সূচির কারণে তারা খানিকটা ক্লান্ত। সুযোগ থাকলে তাদের বিশ্রাম দিতে চান মারুফুল, ‘দিনের আগের ম্যাচ দেখে দল নিয়ে সিদ্ধান্ত নেব। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা যেহেতু অনেকদিন ধরেই খেলার মধ্যে আছে তাই সুযোগ থাকলে আমি কয়েকজনকে বিশ্রাম দিতে চাইব। তাতে রিজার্ভ বেঞ্চেও পরখ করে নেওয়ার সুযোগ পাব।’
মোহনবাগানকে হারানোর স্মৃতি রোমন্থন করে মারুফুল বলেন, ‘২০১৪ সালের মোহনবাগানের সঙ্গে এই দলের সেভাবে কোনো পার্থক্য দেখি না। তবে এবারের চেয়ে ওই মোহনবাগানের ফিটনেস লেভেলটা ভালো ছিল। তখন ওদের দলে সনি নর্দের মতো খেলোয়াড় ছিল।’ প্রথম দুম্যাচ জয়ের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে স্বাগতিক দলের কোচ বললেন, ‘আমার দলের মূল শক্তি গতি। দল যখন বিল্ড-আপ করে প্রতিপক্ষের অর্ধে যায়, তখন ওদের মুভমেন্টগুলো খুব দ্রæত হয়, গোলে অ্যাটাকটা দ্রত হয়। তখন প্রতিপক্ষরা অনেক সময় বুঝতে পারে না কতটা গতিতে আক্রমণে যাবে আমাদের ছেলেরা।’
জামাল ভুঁইয়ার প্রশংসা করলেও জামালের পজিশন নিয়ে খানিকটা দ্বিধায় আছেন মারুফুল। তিনি এখনো নিশ্চিত নন আসলে কোন পজিশনে স্বাচ্ছ¡ন্দ্যবোধ করেন দলের অধিনায়ক। আগের ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করা জামাল অবশ্য যে কোনো পজিশনেই স্বাচ্ছন্দ্য। বাগানকে হারানোর বিষয়ে বেশ প্রত্যয়ী তিনি, ‘আমরা তাদের খেলা দেখেছি। তাদের সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। ওদের বিদায় করে দিয়ে আমরা গ্রপ সেরা হতে চাই। ফুটবলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের একটা ইতিহাস রয়েছে। যেখানে লড়াইয়ের কথাই বলে। সব সময় বলা হয় ভারতের ফুটবল আমাদের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু এই ধারণাটা ভেঙে দেওয়ার একটা সুযোগ আমাদের সামনে। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আমি চাইব ভারতীয় দলটিকে বিদায় করে দিতে।’
