শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে এএফপি। অ্যামনেস্টির গবেষক ফিসেয়া তেকলে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করতে পেরেছি। কিন্তু নিহতের সংখ্যা আরও বেশি। কারণ নতুন কিছু রিপোর্ট এসেছে, যা এখনো আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি।’ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ছোড়া গুলিতেই ওই বিক্ষোভকারীরা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি জানান।
ইথিওপিয়ার প্রখ্যাত অধিকারকর্মী জাওয়ার মোহাম্মদের বাড়ি ঘিরে অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করেছে তার সমর্থকরা। জাওয়ারের সরকারি চিকিৎসার প্রতিবাদে গত বুধবার সমর্থকদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ হামলা চালায়। গত বুধবার রাজধানী আদ্দিস আবাবা ও আম্বো শহরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়। যদিও ইথিওপিয়ার সরকার মাত্র দুজন নিহত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছে।
মিডিয়া ব্যবসায়ী জাওয়ারের সহযোগিতায় গত বছর ক্ষমতায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ। গত কয়েক দশক ধরে নিপীড়নমূলক শাসনে থাকা ইথিওপিয়ায় ব্যাপক রাজনৈতিক সংস্কার করেছেন আবি। প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার সঙ্গে গোষ্ঠীগত সহিংসতা দূর করে আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছর শান্তিতে নোবেল জয় করেছেন তিনি। জাওয়ার সম্প্রতি আবি সরকারের কিছু নীতির বিরোধিতা করায় সংকটের সূচনা হয়।
ইথিওপিয়ায় জাতিগত সহিংসতা ঠেকাতে বাকস্বাধীনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অভিযোগ করা হচ্ছে আবির বিরুদ্ধে। আবি ও জাওয়ার দুজনই একই আদিবাসী গোষ্ঠীর। ইথিওপিয়ার সবচেয়ে বড় গোষ্ঠী ওরোমো থেকে আসা আবি এখন নিজের সমর্থকদেরই বিরোধিতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা জাওয়ারের বাড়ির বাইরে অবস্থান নিয়ে ‘আমরা আবিকে চাই না, আমরা আবিকে চাই না’ সেøাগান দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, ‘আমরা এক সপ্তাহ, এক মাসের পরোয়া করি না। যতক্ষণ সরকার জাওয়ারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের ব্যাখ্যা না দেবে ততক্ষণ আমরা এখানে অবস্থান করব।’
