দলীয় সভায় কাদের

কারও স্বার্থে আঘাত লাগলেও শুদ্ধি অভিযান চলবে

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০১৯, ০২:০৮ এএম

শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কারও স্বার্থে আঘাত লাগতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে চলা শুদ্ধি অভিযান সারা দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হচ্ছে। দলের কেউ অপকর্ম করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার পর এসব কথা বলেন তিনি। একই দিন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সম্মেলনের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবক লীগে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া দুর্নীতি-অনিয়মবিরোধী এ অভিযানে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। অভিযানের মধ্যেই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়েছে। আসছে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে এসব সম্মেলন হওয়ার কথা।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘বসন্তের কোকিলদের’ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ লুটপাট সন্ত্রাসীদের পার্টি নয়। জনগণের ইচ্ছায় আমরা থাকব, অপকর্ম করে আমরা ক্ষমতায় থাকতে চাই না। মানুষের মন জয় করে ক্ষমতায় থাকতে চাই। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, ভূমি দখলকারী, অপকর্মের সঙ্গে জড়িতদের আওয়ামী লীগে দরকার নেই। জনগণ এখন কিছু বলবে না হয়তো, কিন্তু নির্বাচনের সময় জবাব দেবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথকে গত বৃহস্পতিবার সংগঠনের সব ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছারকে।

পংকজ দেবনাথকে নিয়ে কোনো অভিযোগের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তবে তাকে কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটা নেত্রীর নির্দেশ। সহযোগী সংগঠনের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি সম্মেলনের কাজ করবে।

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিল আসছে। সম্মেলন মানেই কিছু নতুন মুখ আসবে। কাউকে আমরা রিটায়ারমেন্ট দিই না, দায়িত্বে পরিবর্তন হয়। শক্তিশালী দল ছাড়া শক্তিশালী সরকার হয় না। দলকে শক্তিশালী করতে নিয়মিত সম্মেলন দরকার।’

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, আপনারা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিন। আমরা তারিখ পরে জানাব। সিটি করপোরেশন নির্বাচন এগিয়ে আসছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে, সম্ভাব্য তারিখ জেনে আমরা সম্মেলনের তারিখ জানাব। প্রার্থীর বিষয়ে নেত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।’ কাদের বলেন, ‘মাঝেমধ্যে নিজেদের অ্যালায়েন্সের কেউ কেউ উল্টাপাল্টা কথা বলেন। সরকারকে দুর্বল ভাববেন না। সততার ভিত্তির ওপর, জনগণের ইচ্ছার ওপর নেত্রী দাঁড়িয়ে আছেন।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে : গতকাল বিকেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, যারা বিতর্কিত, যাদের বিরুদ্ধে অপকর্মের অভিযোগ আছে আমি আবারও বলছি তাদের বাদ দিতে হবে। নতুন ফ্রেশ ব্লাড আমরা চাই, আমাদের নেত্রী চান। এখানে যেন কোনো প্রকার বিতর্কিত ব্যক্তি, অনুপ্রবেশকারী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোনো পর্যায়ের নেতৃত্বে স্থান না পায় এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য ত্যাগী নেতাকর্মী রয়েছে। যাদের অধিকাংশই অতীতে ছাত্রলীগ করেছে এবং দুঃসময়ে ছাত্রলীগ করে তারা স্বেচ্ছাসেবক লীগে এসেছে। এখানে কারও বিচ্যুতি ঘটলে, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে অবশ্যই তাদের নেতৃত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই। ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজেদের দল ভারী করার জন্য দলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুপ্রবেশ ঘটাবেন না। এই বিতর্কিত ব্যক্তিরা ভালোর চেয়েও খারাপই করে থাকে বেশি এবং দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইবে। সেই অবস্থায় এবার আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই। ক্লিন ইমেজের লিডারশিপ আমরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনের মাধ্যমে গড়ে দিতে চাই, স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাকর্মীরাই দায়িত্ব নেবে।

তিনি বলেন, যুবলীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ এই চারটি সংগঠনের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সাত বছরে আরও দুটি কমিটি হতে পারত কমপক্ষে। সেখানে আরও একবার সম্মেলন হতে পারত। কাদের বলেন, এবার সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে পুরনো অভিজ্ঞ মুখও থাকবে আবার নতুন মুখও আসবে। তিনি আরও বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন নিয়ে আমাকে নেত্রী যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, সেভাবে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয়েছে। এ প্রস্তুতি কমিটির মাধ্যমেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। ১৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সম্মেলনের সভাপতিত্ব করবেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল গুহ এবং পরিচালনা করবেন সদস্য সচিব গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু। সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটিতে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে যারা যারা থাকতে চান তাদেরও রাখার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক নির্মল গুহ, সদস্য সচিব গাজী মেসবাউল হক সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত