অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের ১৪৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৮৭৩ সালের এই দিনে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া গ্রামের মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন বাংলার বাঘ খ্যাত এই রাজনীতিবিদ। একসময় উপমহাদেশ কাঁপানো এই নেতার সেই জন্মভিটাটি এখন অযতœ-অবহেলায় পড়ে আছে। বাড়ির পুরনো আমলের ভবনটির আঁতুড়ঘর কক্ষের দায়সারা সংস্কার ও একটি ফলক ছাড়া তার জন্মস্মৃতি রক্ষার্থে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।
শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের নানা আহম্মদ বকস মিয়া ছিলেন ওই অঞ্চলের তৎকালীন জমিদার। বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশের সেই জমিদারবাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন ফজলুল হক। শৈশবের বেশির ভাগ সময় তিনি কাটিয়েছেন ওই বাড়িতেই।
শের-ই-বাংলার জন্মস্থান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিনিয়ত অনেক পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। তবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান তার জন্মস্মৃতি আর জরাজীর্ণ ধ্বংসস্তূপ দেখে।
কয়েক বছর আগে শের-ই-বাংলার ব্যবহৃত অনেক আসবাব এই বাড়িতে পড়ে থাকতে দেখা গেলেও মূল্যবান ওই সব জিনিসপত্র চুরি হয়ে গেছে। তার ব্যবহৃত অবশিষ্ট একটি চেয়ার এই বাড়িতে এখনো পড়ে থাকলেও তা বিনষ্টের পথে।
জানা গেছে, চার বছর আগে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ভবনের যে কক্ষটিতে শের-ই-বাংলা জন্মগ্রহণ করেছিলেন সেই কক্ষটির প্লাস্টার ও ছাদের নিচের কয়েকটি কাঠের খুঁটির সংস্কারসহ শ্বেত পাথরের একটি ফলক স্থাপন করেছে।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের জন্মস্মৃতি রক্ষার্থে এখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হবে। এ জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি অচিরেই এখানে ভবন সংস্কারসহ জাদুঘর নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
