মেছতায় সৌন্দর্যহানি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০১৯, ১২:০৪ এএম

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় মেছতার ইংরেজি নাম মেলাজমা বা কোলাজমা। এটি নারী-পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। তবে তুলনামূলকভাবে নারীদের বেশি হয়।

আমাদের ত্বকের নিচে মেলানিন নামক এক ধরনের রঞ্জক পদার্থ থাকে। কোনো কারণে ত্বকের বিশেষ জায়গায় এটির কার্যক্ষমতা বেশি হলে ত্বকের সেই অংশটি পার্শ্ববর্তী অংশের চেয়ে বেশি গাঢ় হয়ে যায়। ফলে ওই অংশটি কালো বা বাদামি থেকে হালকা বাদামি দেখায়। এর নামই মেছতা। মেছতা  ক্ষতিকারক নয় এটি কোনো অ্যালার্জিংও নয়। এটি থেকে ক্যানসারও হয় না। তাই মেছতায় ভয়ের কিছু নেই। তবে, মেছতা অনেক সময় সৌন্দর্যহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শরীরের যে কোনো জায়গায় মেছতা হতে পারে। তবে যেসব স্থানে সূর্যের আলো বেশি পড়ে, সেই জায়গায় বেশি হয়।

 

মেছতা হওয়ার উল্লেখযোগ্য কারণ

 

প্রোটেকশন ছাড়া অতিরিক্ত সূর্যের আলোয় গেলে মেছতা হয়। সূর্যের আলোই এর প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। হরমোনের তারতম্য ঘটলে, যেমন গর্ভাবস্থায় এটি হয়ে থাকে। হরমোন ওষুধ ব্যবহারে বা হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নিলে কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলেও এটি হয়। থাইরয়েড হরমোনের তারতম্য ঘটলে মেছতা হতে পারে। বংশগত কারণে হতে পারে। ত্বক নিয়মিত ভালোভাবে পরিষ্কার না করলেও মেছতা হয়। মেছতা ত্বকের এক ধরনের রোগ। ত্বকের যেসব সমস্যা বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম হলো মেছতা। এটা বিভিন্ন জায়গায় হতে পারে। যেমন গালে, নাকের ওপরে, থুঁতনিতে, ওপরের ঠোঁটের ওপরের অংশে, গলায়, ঘাড়ে, এমনকি হাতেও হতে পারে।

প্রতিকারের উপায়

 

মেছতা পুরোপুরি প্রতিকার করা সম্ভব হয় না। তবে অবস্থার উন্নতি করা যায়। তই মেছতা হলে প্রথমেই একজন ভালো ডার্মাটোলজিস্টকে দেখাতে হবে। সাধারণত চিকিৎসকরা উডস ল্যাম্পের সাহায্যে মেছতা নির্ণয় করে থাকেন। এরপর মেছতার জন্য তারা বিভিন্ন ওষুধের ক্রিম বা জেল দিয়ে থাকেন। যদিও এটি ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, তবু এটি মাঝে মধ্যে মেছতার জন্যও ডাক্তাররা দিয়ে থাকেন। মনে  রাখতে হবে, এগুলো কিন্তু ক্রিম বা জেল হিসেবে মুখে মাখতে হয়।

ডা. এস এম বখতিয়ার কামাল

(চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ)

সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

চেম্বার : কামাল হেয়ার অ্যান্ড স্কিন সেন্টার

গ্রিন সুপার মার্কেট, ফার্মগেট, ঢাকা

মোবাইল: ০১৭১১-৪৪০৫৫৮

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত